বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির অপচেষ্টা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১০৪ Time View

 

মোঃ আফজাল হোসেন,দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ হিতেন্দ্র নাথ রায় আর্থিক দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে কলেজ কার্য্যক্রমকে স্থবির করে অবশেষে নিজ চাকুরীর মেয়াদ বর্দ্ধিত করণের জোর অপচেষ্টা চালিয়ে প্রভাব বিস্তারে মাঠে নেমেছেন। তার চাকুরী নির্দিষ্ট মেয়াদ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে শেষ । মেয়াদের পরে কোন ক্রমেই যেন চাকুরীর মেয়াদ বর্দ্ধিত না হয় এ নিয়ে সচেতন অভিভাবক মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।জানা গেছে দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: খাইরুল আলম পদে থাকা কালীন আর্থিক দুর্নীতি, র্নিমান কাজে অনিয়ম, জালিয়াতি, ভূয়া ডাবল ভাউচারের মাধ্যমে ১৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭শত ৯৫ টাকা আত্বসাৎ করেছেন মর্মে অভ্যান্তরিন হিসাব ও নিরিক্ষার দায় প্রতিবেদনে প্রতিয়মান হয়েছে।

আত্বসাৎকৃত ১৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭শত ৯৫ টাকা গর্ভনিং বোর্ড কর্তৃক সিদ্ধান্তের পরেও আজ অবধী কলেজ তহবিলে জমা হয়নাই। বর্তমান অধ্যক্ষ অর্থ আত্বসাতে খাইরুল আলম কে সুযোগ করে দিয়েছেন এবং গর্ভনিং বোর্ডের সিদ্ধাস্ত বাস্তবায়ন করেন নাই। গর্ভনিং বোর্ডের সিদ্ধান্ত ক্রমে ১৫ দিনের মধ্যে আত্বসাৎকৃত টাকা আদায়ের জন্য চিঠি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও গোপন লেনদেনের কারণে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ খাইরুল আলম কে তাগিত পত্র দেওয়া হয়নি এমন কি গর্ভনিং বডি কে জানানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন নি। কলেজের স্বার্থে টাকা আদায়ের জন্য ফৌজদায়ী মামলা সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না বর্তমান অধ্যক্ষ হিতেন্দ্র নাথ রায় ।

প্রসঙ্গত সাবেক অধ্যক্ষ খাইরুল আলম ০৩/১১/২০১১ইং খ্রিষ্টাব্দ তারিখ থেকে ০২/০৩/২০১৬ইং খ্রিষ্টাব্দ তারিখ পর্যন্ত বিধি বর্হিভূত ভাবে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ছিলেন। উক্ত সময়ে তার সকল কাজের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন তৎকালীন সহকারী অধ্যপক (ইংরেজী) বর্তমান অধ্যক্ষ হিতেন্দ্র নাথ রায়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের অভ্যন্তরীন হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য মো: আব্দুল গফফার- আহ্বায়ক, মো: আমজাদ হোসাইন- সদস্য, মো: মজহারুল হক- সদস্য ৩ সদস্যর উপ কমিটি গঠন করে পত্র প্রদান করা হয় যাহার স্মারক নং: দি.স.ক/অডিট/৩৩/৮৫/৩১৬৪(১) তারিখ: ১৭/০২/২০১৬ ইং।
বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ি এবং কলেজ গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আভ্যন্তরিন হিসাব ও নিরীক্ষার প্রতিবেদন জমা হলে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খাইরুল আলমের ১৩,৮৯,৭৩৫/- টাকা দায় ধরা পড়ে।

তৎকালিন জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর ও কলেজের সভাপতি অন্যত্র বদলি হলে বর্তমান অধ্যক্ষ জনাব হিতেন্দ্র নাথ রায় অসৎ উদ্দেশ্য অহেতুক কালক্ষেপন করেন। গত ১১/০৮/২০১৮ তারিখের ২১/২০১৮ নম্বর গর্ভনিং বডির সভায় উক্ত বিষয়টি রিভিউ করার সিদ্ধান্ত হয় এবং সরকারি (অব.) অডিট অফিসার জনাব মো: মতিউর রহমান মুন্সিকে দ্বায়িত্ব দিলে তিনি তিন মাসের মধ্যে রিভিউ প্রতিবেদন জমা দেন এবং ১২,৩৫,৭৬৪/- টাকা আত্বসাৎ পুনরায় ধরা পড়ে। অতপর গত ১৫/০২/২০২০ইং তারিখের ২৮/২০২০ সং গর্ভনিং বডির সভায় উপস্থাপন করলে দায়কৃত উক্ত পরিমান টাকা পনের দিনের মধ্যে কলেজ ফান্ডে জমা দানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ হিতেন্দ্র নাথ রায় অযথা কালক্ষেপন করছেন এবং কলেজের জি.বির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন না।

তিনি আবারো জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর ও কলেজের সভাপতির বদলি প্রত্যাশা করছেন এবং সাবেক অধ্যক্ষ খাইরুল আলমের দায়মুক্তির পথ খুজছেন। আত্বসাৎকৃত অর্থ কলেজ ফান্ডে জমা না হওয়ায় একদিকে যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে অন্যদিকে কলেজ আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হিতেন্দ্র নাথ রায় এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্ঠা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

কিউএনবি/অনিমা/৩১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ /বিকাল ৩:০৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit