বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

সোভিয়েত ইউনিয়নের পথেই কী হাঁটছেন পুতিন?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১২০ Time View

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে কদিন ধরেই অস্থির কাজাখস্তান। এরইমধ্যে সাধারণ জনগণের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছে দেশটির সরকার।

চলামান এই বিশৃঙ্খলা এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে দেশটিতে পৌঁছেছে রাশিয়ান নেতৃত্বাধীন জোটের প্যারট্রুপার্স দল। জানা গেছে, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধেই রুশ সেনা পৌঁছেছে সেখানে। 

কাজাখস্তানের রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে রাশিয়ার এই হস্তক্ষেপের বিষয়টি আবার সোভিয়েত ইউনিয়নকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

তারা মনে করছেন, কাখস্তানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যদি দেশটির নেতাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে তাহলে, তা রাশিয়ার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিরিয়ে আনার সহায়ক হিসাবেই কাজ করবে। আর এই বিষয়টি মূলত দীর্ঘদিন ধরে পুতিনের অন্যতম লালিত স্বপ্ন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

কাজাখস্তানে রুশ সৈন্য পাঠানোর ঘটনাটির মধ্যদিয়ে গেলো দুই বছরের মধ্যে চতুর্থবারের মত রাশিয়া কোনও প্রতিবেশী দেশের প্রতি নমনীয় হল। এর আগে যেই তিনটি দেশের প্রতি নমনীয় হয়েছিল সেই তিনটি দেশ হল বেলারুশ, আর্মেনিয়া এবং ইউক্রেইন। 

মস্কোর স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সুচকভ বলেছেন, কাজাখস্তানের অস্থিরতাকে একটি গুরুতর সংকট হিসাবে দেখা যেতে পারে যাকে রাশিয়া একটি সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে পারে। 

মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নমনীয় আচরণের মধ্যদিয়ে আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

তারা আরও বলছেন, ইউরোপ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ব্যার্থ হওয়ার মত যেসব ঘটনা ঘটে সেগুলোতে পুতিন যতটা আনন্দিত হন, ততটা হন না প্রতিবেশী দেশগুলোতে এমন ঘটনা ঘটলে। 

রাশিয়ার প্রতিবেশি দেশ বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আখেরজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে বিশাল বিক্ষোভের ঢেউ থামাতে সহায়তা করার জন্য ২০২০ সালের আগস্টে বিস্তৃত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। এরপর আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ থামাতে শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছিল রাশিয়া। 

প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন অঞ্চলের বেশিরভাগ জায়গার ওপর আধিপত্য ছিল রাশিয়ার। রাশিয়া সেই আধিপত্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগাচ্ছে কিনা এবং সেই লক্ষ্যে আগালে, কাজাখস্তানে রাশিয়ার সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এটিই এখন ভাববার বিষয়।  

বর্তমানে কাজাখস্তানে রাশিয়ার যে সৈন্য মোতায়েন হয়েছে তা একটি চুক্তির ভিত্তিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট যে এখন কাজাখস্তান রাশিয়ার কথাতেই চলতে বাধ্য। এই বিষয়টিকেই রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন পুন:প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে পারে বলে মত বিশ্ব বিশ্লেষকদের।

কিউএনবি/অনিমা/৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সকাল ৯:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit