তবে সিভিল সোসাইটি বা সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময় জুড়ে ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতার এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে।
সমাবেশে যোগ দিয়ে মারিজা নেদেলকোভিক রাডিক নামের সাতচল্লিশ বছর বয়সী এক নারী বলেন যে, তিনি স্টুডেন্ট লিস্টকে সমর্থন করতে এসেছেন কারণ তরুণ প্রজন্ম অবশেষে তাকে এমন একটি দেশে বাস করার আশা দেখিয়েছে যা সত্যি একটি স্বাভাবিক দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তার মতে, তিনি তার জীবনের এই প্রথম এমন বিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন যে এটি করা সত্যিই সম্ভব।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বেলগ্রেডের কেন্দ্রীয় স্লাভিজা স্কোয়ারে চারদিক থেকে জনস্রোত এসে মিলিত হয় এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়কের ব্লক জনাকীর্ণ হয়ে পড়ে। ‘ছাত্ররাই জিতছে’ লেখা বিভিন্ন পতাকা নেড়ে, নানা স্লোগান দিয়ে এবং বাঁশি বাজিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থক বেলগ্রেডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্লাভিজা স্কোয়ারে এসে জড়ো হন। স্বাধীন গণজমায়েত পর্যবেক্ষণকারী দল ‘আর্কাইভ অব পাবলিক গ্যাদারিং’-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই বিশাল সমাবেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টুডেন্ট লিস্টের আড়াইশ জন প্রার্থীর একজন এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক জুগোস্লাভ গ্যাসিক বলেন, তারা চৌদ্দ বছরের অপমান, বিশৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসঘাতকতার অবসান ঘটাতে চলেছেন এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থকে মানুষের কল্যাণের ঊর্ধ্বে রাখার সংস্কৃতির ইতি টানছেন। উপস্থিত জনতা তখন ‘বিজয়, বিজয়’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। তিনি আরও বলেন যে জনগণ এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয় তা তাদের জানা আছে, কারণ দিনশেষে ছাত্ররাই বিজয়ী হতে চলেছে।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে চলেছেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে গত মাসেই এই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।
সূত্র: গার্ডিয়ান
























