শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ শুরুতেই বিভ্রান্ত ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব পোষা বিড়াল নিয়ে বিবাদ, ষষ্ঠ তলা থেকে শিশুকে ফেলে দিল কিশোরী মাদার অব অল বোম্বস কী, কেন বোমাটিকে এই নামে ডাকা হয়? যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, শিশুসহ নিহত ৪ তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের পর আগ্রহ প্রকাশ করল নেদারল্যান্ডস সমালোচনার মুখে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পথে কানাডা কোকেন সেবনের পর লন্ডনের রাস্তায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ, পাশেই খেলছিল সন্তান বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও দমন-পীড়ন: চরম হতাশায় পাকিস্তানের তরুণেরা

মাদার অব অল বোম্বস কী, কেন বোমাটিকে এই নামে ডাকা হয়?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক (কনভেনশনাল) অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। তবে বিশ্বের মানুষের কাছে এটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘সব বোমার জননী’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মূলত এটি একটি জিপিএস-পরিচালিত সাধারণ বোমা, যা মার্কিন বিমান বাহিনীর রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয়েছিল। 

প্রায় ৯৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৯.১ মিটার এবং এতে প্রায় ৮৪৮০ কেজি বিস্ফোরক ভরা থাকে। এর একটি একক বিস্ফোরণে প্রায় ১১ টন টিএনটি-এর সমপরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। যা প্রতিপক্ষের সামরিক ঘাঁটি, সাঁজোয়া সরঞ্জাম এবং বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শত্রুবাহিনীকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। পারমাণবিক বোমার সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো, এতে কোনো তেজস্ক্রিয় ক্ষতিকর বিকিরণ তৈরি হয় না।

কিন্তু কীভাবে পেল এটি এই অদ্ভুত নাম? এর প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ‘এমনওএবি’। মূলত এর সুবিশাল আকার এবং অকল্পনীয় ধ্বংসক্ষমতার কারণেই এটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে নামান্বিত হয়। এই নামকরণের পেছনে একটি ঐতিহাসিক পটভূমিও রয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন সেই যুদ্ধকে ‘সব যুদ্ধের মা’ (মাদার অব অল ব্যাটলস) হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার ব্যবহৃত সেই বিখ্যাত বাক্যাংশের সঙ্গে মিলিয়েই পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমে এই বোমার ডাকনামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে মার্কিন বিমান বাহিনী তাদের প্রকাশিত একটি নিবন্ধেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই জনপ্রিয় ডাকনামটির স্বীকৃতি দেয়।

প্রযুক্তিগতভাবে এটি ২০০৩ সালে তৈরি ও পরীক্ষা করা হলেও বাস্তব যুদ্ধে প্রথমবার এর ব্যবহার দেখতে বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ১৪ বছর। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো এই বোমাটি নিক্ষেপ করে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার একটি গভীর সুড়ঙ্গ ও গুহা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বোমাটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ছিল এর ইতিহাসে একমাত্র সামরিক প্রয়োগ। যদিও ক্ষমতার দিক থেকে এটি পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় অনেক ছোট, তবুও সাধারণ অস্ত্রের তালিকায় এর পর্বতসম আকার এবং প্রলয়ঙ্করি ধ্বংসক্ষমতা একে মার্কিন সামরিক অস্ত্রাগারের অন্যতম আলোচিত ও আইকনিক অস্ত্রে পরিণত করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

কিউএনবি/অনিমা/১৬ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ৮:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit