বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিক্ষার্থী নিহত, আহত ১৯ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: মন্ত্রী মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু কাল ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন সেতু চালু, নিষেধাজ্ঞা এড়াবেন কিম? বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার রাজধানীসহ সারাদেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর ‘ছিনতাই’ সন্দেহে দিল্লিগামী ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, এরপর যা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর গবেষণা-উদ্ভাবন মেলা আয়োজনের উদ্যোগ

প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়, তবু কেন হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বছরে প্রতিরক্ষায় হাজার হাজার কোটি (বিলিয়ন) ডলার খরচ করেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার বা পাইপলাইনের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার খরচ করেছে সৌদি আরব। বিশ্বজুড়ে সামরিক খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করা শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় দেশটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইটার জেটের পাশাপাশি আধুনিক প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে সংগৃহীত নানা উন্নত অস্ত্র রয়েছে রিয়াদের বহরে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের সামনে রক্ষাকবচ তৈরির ক্ষেত্রটি অনেক বিশাল। ভৌগোলিক বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আয়তনের এই দেশটি তিন দিক থেকেই নিরাপত্তার হুমকিতে রয়েছে।

পূর্ব দিক থেকে এ বছর সংঘাতের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে ইরানি বাহিনী সৌদি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রায় ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। উত্তর দিক থেকে ইরাকের ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে হামলা চালাতে ড্রোন পাঠিয়েছে। আর দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলের আস্তানা ও মোবাইল লাঞ্চার ব্যবহার করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ভিশন২০৩০ডটএআই-এর মতে, সৌদির প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার অর্থ কেবল রাজধানী রিয়াদ বা নির্দিষ্ট একটি শোধনাগার রক্ষা করা নয়; বরং স্থাপনার সুবিশাল নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখা। প্রতিটি হুমকির নিশানা শনাক্ত করা, কোনটি প্রতিহত করতে হবে তা নিমেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নাগরিকদের দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠানো—সবই করতে হয় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে।

হুথিদের ছোড়া বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝআকাশেই ধ্বংস করছে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু হামলা লক্ষ্যভেদে সফল হচ্ছে। হামলা হতে পারে এমন অসংখ্য অরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছড়িয়ে থাকায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বণ্টনের ক্ষেত্রে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে দেশটির একটি সূত্র জানিয়েছে।

হুথিদের সামর্থ্য ও কৌশল

সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও ভেঙে ফেলতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোনের সমন্বয় ঘটানো শিখেই কৌশল সাজাচ্ছে হুথিরা। এই কৌশল অনেকটা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অনুসৃত নীতির মতো; যেখানে একঝাঁক ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনে মুহুর্মুহু হামলা চালায় মস্কো।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক কম উচ্চতায় উড়ে আসে, যা রাডারে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা বেশ কঠিন। এ ছাড়া হুথিরা নতুন প্রজন্মের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে, যেগুলো চলাচলের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম বলে তাদের দাবি।

কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই আকাশের সব হুমকি ১০০ ভাগ প্রতিহত করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে হুথিরা এই সক্ষমতা এক দিনে অর্জন করেনি। আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আট বছর আগে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ ও ড্রোন শনাক্ত করেছিলেন, যার উৎস ছিল ইরান।

দুই বছর আগে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ দল জানিয়েছিল, বাইরে থেকে হুথিদের কাছে পৌঁছানো অস্ত্র, প্রযুক্তি, অর্থ এবং যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের যে মাত্রা ও পরিধি দেখা গেছে, তা নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের ব্যবহার করা সর্বশেষ ‘হাতেম-২’ এবং ‘প্যালেস্টাইন-২’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নকশা ইরানি অস্ত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির ও নিখুঁত নিশানা হানতে সক্ষম।

গত বছর হুথিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের বহু প্রশংসিত প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে। ওই সময় সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশ্লেষক আমির বার শালোম বলেছিলেন, ‘২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে লঞ্চ করে এত সূক্ষ্ম নিশানায় আঘাত হানার ক্ষমতা সত্যিই চমকপ্রদ।’

ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির মতে, হুথিরা বিমানের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত হানতে সক্ষম ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রও নিজেদের মতো করে সংশোধন করে নিয়েছে।

গত মাসে তিনি বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে ২৫ মিনিট পর্যন্ত আকাশে চক্কর কাটতে পারে এবং এগুলো থার্মাল-ট্র্যাকিং (তাপ অনুসরণকারী) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে।’

তেহরানের কথা কি শুনবে হুথিরা?

ইরানের ‘অক্ষশক্তি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হুথিরা। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস বা ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সামরিকভাবে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়লেও হুথিরা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তেহরানের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে; সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় তারা প্রতিনিধিদল পাঠায়। তবে তাদের নিজস্ব কিছু রাজনৈতিক এজেন্ডাও রয়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সৌদি জোটের সঙ্গে সাত বছরের সংঘাতে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের অংশগুলোতে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, যা অর্থনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে এখনো বহাল রাখা হয়েছে।

এর জের ধরেই গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় হুথিরা। এর পরপরই লোহিত সাগর উপকূলীয় আরামকো শোধনাগার এবং সৌদির বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সমর্থনে সৌদি বিমান হামলা বন্ধের পাশাপাশি রিয়াদের কাছ থেকে কোটি কোটি (বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে হুথিরা।

সদিচ্ছা প্রকাশ করে হোক বা কৌশলগত কারণেই হোক, রিয়াদ ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সোমবার বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের (হুথি) মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত।

এদিকে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি জানান, রিয়াদ মধ্যস্থতার প্রস্তাব মেনে নিলেও তাদের দেওয়া দুই সপ্তাহ বা এক মাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এবারের লড়াই আগেরগুলোর মতো নয়; ক্ষেত্র এখন বদলে গেছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন এর ব্যাপ্তি বাড়াবে এবং ক্ষতিকে আরও গভীর করবে। যে সমঝোতা আজ সম্ভব, আগামীকাল তা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।’

কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে সৌদি আরব

হুথিদের সঙ্গে সংঘাত চরমে পৌঁছালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে সৌদি আরব। রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঠিক আগের সপ্তাহে মোবাইল ফোনে ক্ষেপণাস্ত্রের পাবলিক অ্যালার্ট জারি করা বন্ধ রেখেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

তবে রিয়াদের একাধিক বাসিন্দা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন যে, অ্যালার্ট দেওয়া আবার শুরু হয়েছে। সোমবারও তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

রিয়াদে বসবাসকারী এক প্রবাসী সিএনএনকে জানান, চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তার কারণে তার সন্তানদের গৃহবন্দি অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস করানো হচ্ছে। বিমানবন্দরে হামলার দিনগুলোতে অটোমেটিক অ্যালার্ট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সোমবার থেকে আবার মেসেজ অ্যালার্ট সচল হয়েছে। তবে শনিবারে বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সরকারি নীরবতা নিয়ে অসন্তোষ জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিএনএনকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সামনে দিনগুলোতে সৌদি আরবের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। বিমানবন্দরে ডজনখানেক সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার পর হুথিদের সঙ্গে কোনো নমনীয় সমঝোতায় যাওয়া রিয়াদের জন্য রাজনৈতিকভাবে চরম অবমাননাকর।

অন্যদিকে, বিমান হামলা জোরদার করে সংঘাত বাড়ানো হলে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়বে, যা সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত করার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যে ভিশন, তাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলবে।

পরিস্থিতির ঝুঁকি কেবল তেল শিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। ডাটা সেন্টার, পানি শোধনাগার এবং বিমানবন্দরগুলো সৌদির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পানি সরবরাহ এবং পর্যটন খাতের মূল ভিত্তি। চলতি মাসের শেষের দিকে রিয়াদে যুবরাজের বহুল আলোচিত বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রধান মঞ্চ।

তবে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেস থেকে অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক করপোরেশন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সাহায্যে ভূ-পৃষ্ঠে অভিযান চালিয়ে হুথি বিদ্রোহীদের পরাস্ত করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি ভৌগোলিক পরিবেশ সম্পর্কে সুসংগঠিত হুথিরা সুপ্রশিক্ষিত ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ। গত এক মাসে সরকারি বাহিনীকে তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

গত বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান হামলায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি খরচ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ফলাফলস্বরূপ লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার চুক্তিতে পৌঁছালেও ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে হুথিরা; উল্টো মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ‘রিপার’ ড্রোন গুলি করে নামায় তারা।

মার্কিন বা ইসরাইলি হামলায় হুথিদের কিছু কমান্ডার নিহত হলেও মূল নেতৃত্বকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা নিয়ে হুথিরা এখন যুদ্ধের ময়দানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) সোমবার জানিয়েছে, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে পরিচিত সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তায়েজ শহরটি এখন হুথিদের অবরোধের মুখে।

হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে। সৌদির নিরাপত্তায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। মিসরও যেকোনা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরান সংঘাতের সময় ফুরিয়ে আসা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত বাড়াতে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ।

তবে আমেরিকার নিজের কাছেই এই মুহূর্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পর্যাপ্ত মজুত নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর-জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানবিরোধী অভিযানে আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং পুনঃসরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্পোৎপাদনে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তা ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক ঝামেলায় জড়াতে অনীহা দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুথিদের ওপর সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে না দিলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষক মাইকেল র্যাটনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অনীহা এমন এক ধারণা তৈরি করছে যে বিপদের দিনে তারা নিজেদের সহযোগীকে একলা ফেলে গেছে।’

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার আগেই নিজের এক বিশ্লেষণে সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেছিলেন, ‘রাজ্য আক্রমণের মুখে পড়েছে এবং রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই তাকে এর বদলা নিতে হবে। তবে দিনশেষে আমাদের কূটনৈতিক সমাধানেই ফিরে আসতে হবে—এমন এক অসন্তোষজনক ও ত্রুটিপূর্ণ কূটনীতি, যা সাময়িকভাবে সংঘাতকে থমকে দিতে পারে।’আর তা যদি হয়, তবে ইয়েমেনের ভেতরে হুথিরা আরও শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য অবস্থানেই বহাল থেকে যাবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit