মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

সিএনএনের বিশ্লেষণ: হুতিদের হামলার জবাব দেওয়ার পথ খুঁজছে সৌদি আরব

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরব এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর রিয়াদ কীভাবে এর প্রতিশোধ নেবে এবং তাদের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

হুতিদের দমনে সৌদি আরবের সামনে এখন সীমিত বিকল্প এবং কঠিন সমীকরণ রয়েছে। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশকে একটি স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও বৈশ্বিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে এযাবৎকাল রিয়াদ কেবল আকাশপথে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রেখেছে।

মাত্র দুই দশক আগে ছোট একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া হুতিরা এখন ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে এখন তেল আবিবের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। 

ইয়েমেন সরকারের দাবি, ইরানি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় হুতিরা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন এবং তাপ শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারে। এমনকি উত্তর ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীটি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আরও নিখুঁত ও স্থিতিশীল করতে ‘ক্লদ এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলেও মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক ইঙ্গিত দিয়েছে।

হুতিদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জোরালো সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব। ইতোমধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান রিয়াদকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং তুরস্কও সামরিক সাহায্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমনকি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যিনি অতীতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে বিতাড়িত করতে সফল সামরিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত হুতিদের ওপর সরাসরি কোনো বিমান হামলায় অংশ নেয়নি। তার পরিবর্তে তারা একটি নতুন যৌথ কমান্ডের অধীনে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুতিদের ওপর হামলার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প তাতে সায় দেননি। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরের এই সাম্প্রতিক হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ট্রাম্পের সুর কিছুটা বদলেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি এই যুদ্ধে যোগ দিলেও দিতে পারে।

কিউএনবি/অনিমা/১৩ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ৭:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit