মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন, ইসলামাবাদে রেড অ্যালার্ট

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করেছে ফেডারেল সরকার। মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির অনুমোদনের পর রবিবার সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়। এর ফলে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।

একই সময়ে রাজধানী ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শহরজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও স্থাপনায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জিও নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের লং মার্চ চলার মধ্যেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলো। ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু করেন তারা। গত শনিবার ছিল কর্মসূচির সপ্তম দিন। লং মার্চ তখনো খাইবার পাখতুনখোয়ায় অবস্থান করছিল।

প্রেসিডেন্ট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন অনুমোদন করা হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সরে দাঁড়িয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রেসিডেন্টকে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের পরামর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব রাখেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট জারদারি জানান, দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সুপারিশ তিনি অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদনের পর ড. মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্য সচিব নিয়োগ দিয়েছে ফেডারেল সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের গ্রেড-২২ কর্মকর্তা ইরফান এর আগে ফেডারেল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ছিলেন। তার বাড়ি মারদানে।

প্রতিবেদনে সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ, বহিরাগত আগ্রাসন কিংবা প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলায় দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়।

তবে প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণে এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করতে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাব প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট নিজের উদ্যোগে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে তা ১০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার প্রেসিডেন্ট নিজের উদ্যোগে এ পদক্ষেপ নেননি।

জরুরি অবস্থার সময় ফেডারেল আইনসভার তালিকায় নেই, এমন বিষয়েও সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা তার কোনো অংশের জন্য আইন করতে পারে পার্লামেন্ট। এতে প্রাদেশিক পরিষদের সাংবিধানিক আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সীমিত হয় না। তবে প্রাদেশিক আইনের কোনো বিধান পার্লামেন্টের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে পার্লামেন্টের আইন কার্যকর থাকা পর্যন্ত সেটিই প্রাধান্য পায়। সে ক্ষেত্রে প্রাদেশিক আইনের সাংঘর্ষিক বিধান কার্যকর থাকে না।

অন্যদিকে, ২৩৪ অনুচ্ছেদে প্রদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে গভর্নরের শাসন জারির বিধান রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাদেশিক গভর্নরের অনুরোধ প্রয়োজন।

এই অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা ঘোষণা পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে উপস্থাপন করতে হয়। সেখানে প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন না পেলে দুই মাস পর ঘোষণাটি কার্যকারিতা হারায়। একই প্রক্রিয়ায় একবারে সর্বোচ্চ দুই মাস করে মেয়াদ বাড়ানো যায়। তবে মোট মেয়াদ ছয় মাসের বেশি হতে পারে না।

জরুরি অবস্থার সময় কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সংবিধানের ২৩৩ অনুচ্ছেদে। তবে প্রেসিডেন্ট জারদারির সই করা সারসংক্ষেপে এই অনুচ্ছেদের উল্লেখ নেই।

সূত্র: ডন ও জিও নিউজ।

কিউএনবি/অনিমা/১৩ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৩:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit