লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : এইচআইভি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে এইডসে রূপ নিতে পারে। বিশ্বজুড়ে এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
অনেকের ধারণা, শুধু শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই এইচআইভি ছড়ায়। তবে ধারণাটি সঠিক নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক তরলের মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই সংক্রমণের প্রকৃত কারণ জানা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
যেভাবে ছড়াতে পারে এইচআইভি
এইচআইভির পূর্ণরূপ হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কোষকে আক্রমণ করে। সংক্রমিত রক্ত, বীর্য, যোনিরস, পায়ুপথের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে সাধারণ স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া কিংবা করমর্দনের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না।
শারীরিক সম্পর্ক সম্পর্ক ছাড়াও যেসব কারণে এইচআইভি সংক্রমণ হতে পারে, সেগুলো হলো—
১. সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ: রক্ত নেওয়ার সময় রক্তদাতার শরীরে এইচআইভি থাকলে এবং যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া সেই রক্ত গ্রহণ করা হলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা জরুরি।
৩. জীবাণুমুক্ত নয় এমন চিকিৎসা সরঞ্জাম: দূষিত সুচ, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি কিংবা রক্তের সংস্পর্শে আসা সরঞ্জাম যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
৪. মা থেকে সন্তানের শরীরে: এইচআইভিতে আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় কিংবা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
৫. সংক্রমিত রক্তের সরাসরি সংস্পর্শ: সুচের আঘাত বা দুর্ঘটনাবশত সংক্রমিত রক্ত শরীরে প্রবেশ করলে এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
৬. অনিরাপদ ট্যাটু বা পিয়ার্সিং: জীবাণুমুক্ত নয় এমন সুচ দিয়ে ট্যাটু বা শরীরে ছিদ্র করার সময় সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ ঘটলে এইচআইভি ছড়াতে পারে।
এইচআইভির সম্ভাব্য লক্ষণ
সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, গলাব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কারও কারও রাতে অতিরিক্ত ঘাম, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া কিংবা পেটের সমস্যা হতে পারে। আবার অনেকের দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। শুধু লক্ষণ দেখে এইচআইভি শনাক্ত করা সম্ভব নয়; নিশ্চিত হতে পরীক্ষা করাতে হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শ ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সম্ভাব্য সংক্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিইপি (পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস) শুরু করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী এইচআইভি পরীক্ষা করাতে হবে। সংক্রমণ শনাক্ত হলে নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।
এইচআইভি সম্পর্কে সচেতনতা, নিরাপদ চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসাই সংক্রমণ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
কিউএনবি/আয়শা/১২ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১২:২২