মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শাস্তির অপেক্ষায় ম্যান সিটি, হালান্ডের ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন বাবা সত্যিই কি ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে যাচ্ছেন ট্রাম্প? ফ্রিজার হ্যাক করে খাবার নষ্ট, আতঙ্কে ইউরোপের সুপারমার্কেট আন্দোলনের নামে সহিংসতা, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার ২২৩ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ ২০৬০ টাকা বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাযা ও দাফনে বাঁধা প্রতিবাদে নওগাঁয় বিক্ষোভ সমাবেশ যোগ্যতা নয়, পরিচয়ই বড়? পাহাড়ের ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্যের অভিযোগ যশোরের  জিআই পণ্য  খেজুর গুড় সংগ্রহ মওসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

বাংলাদেশ জনতা পার্টির ২১ দফা রাজনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫২ Time View

ডেস্ক নিউজ : গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২১ দফা রাজনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যে তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দেশে প্রত্যাবর্তন, দলের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য ২১ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে মিঠুন চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নিখোঁজ, রিমান্ড ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন, হয়রানি ও কারাবাসের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস অটুট রয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার লক্ষ্যে তিনি আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন।

মিঠুন চৌধুরী বলেন, “ক্ষমতার জন্য রাজনীতি নয়, মানুষের জন্য রাজনীতি। প্রতিহিংসার জন্য রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচারের জন্য রাজনীতি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জনতা পার্টি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দলটি আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য ২১ দফা রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরিকল্পনায় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:-

১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এমন সাংবিধানিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব।

২. রাজনৈতিক সংস্কার: প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার: ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

৪. প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ: স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সংস্কার।

৫. কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা: কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রসার।

৬. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ও আইন প্রণয়নে অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব।

৭. নারীর সমঅধিকার: ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা পরিচয় নির্বিশেষে নারীর সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৮. নির্যাতনমূলক ও বিতর্কিত আইন সংস্কার: নাগরিকের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার বিবেচনায় আইন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার।

৯. প্রতিটি পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ: সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ।

১০. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

১১. শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত ইন্টারনেট: শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ।

১২. গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব প্রদান।

১৩. সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা: জনগণের জন্য সবার নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।

১৪. শিক্ষিত বেকারদের সহায়তা: যোগ্য ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

১৫. মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি: কর্মজীবী মা-বাবার জন্য ছুটির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রস্তাব।

১৬. তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ: তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন।

১৭. নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা: সাশ্রয়ী আবাসন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।

১৮. খেলাপি ঋণ আদায় ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা: ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণসুবিধা।

১৯. গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণ: গণমাধ্যমকর্মীদের আবাসন, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিশেষ কর্মসূচি।

২০. মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান।

২১. কৃষকের সুরক্ষা ও কৃষি অর্থনীতি: কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবীমা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ।

মিঠুন চৌধুরী বলেন, অতীতে তাঁর ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁরা রাজনীতি করতে চান না। বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে আইনের শাসন সবার জন্য সমান হবে এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জনতা পার্টি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যান্সার গবেষক ডা. এস এম সারোয়ার, রাজনীতিবিদ ও উপস্থাপিকা সুমি প্রিয়সি, বাংলাদেশ জনতা পার্টির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান এবং সহদপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কিউএনবি/অনিমা/১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:৩৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit