শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে শঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কারণে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির পর নতুন এই সংকটে বিশ্ববাজারের মতো বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুট ইরানসংলগ্ন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেশ কিছুদিন ধরে কার্যত বন্ধ। বিকল্প হিসেবে ক্রুড অয়েলের বেশ কয়েকটি চালান আমদানি করা হয়েছে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে। যেখানে সময় লেগেছে ১২ থেকে ১৩ দিন। এ পথে দূরত্ব প্রায় চার হাজার নটিক্যাল মাইল। মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আফ্রিকা হয়ে বিকল্প ঘুরপথে দেশে ক্রুড অয়েলসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আনতে সময় লাগবে ৫০ থেকে ৫২ দিন। পাড়ি দিতে হবে প্রায় ১৩ হাজার নটিক্যাল মাইল। অর্থাৎ ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে যেকোনো জাহাজকে। বাড়তি সময় লাগার কারণে বাড়বে পরিবহন ব্যয়।

এরই মধ্যে বাব আল-মানদেবের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ঘুরপথে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে দেশে এসেছে এমটি নিনেমিয়া নামের একটি জাহাজ। আগে যেখানে ১২ থেকে ১৩ দিন লাগত, সেখানে আফ্রিকা হয়ে আসতে এমটি নিনেমিয়ার লেগেছে ৫২ দিন। গত ২৩ জুলাই ইয়ানবু থেকে যাত্রা শুরু করা এ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো আমিরুল হক বলেন, ‘সমস্যাটি বৈশ্বিক এবং কম সময়ে সমাধান হবে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিতে হবে।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘বাব আল-মানদেব দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় পণ্য রপ্তানি হয়। তাই প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে রপ্তানিতেও সমস্যা দেখা দেবে। ইউরোপে একটি কনটেইনার পাঠাতে এখন লাগে চার হাজার মার্কিন ডলার। বিকল্প পথে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে রপ্তানি করতে খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ডলার। আমদানিতেও একই অবস্থা হবে। বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে ভোক্তার ঘাড়ে।’

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়। ক্রুড সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি শোধনাগার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) প্রধান ইউনিট বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরে বিকল্প রুটে মানদেব প্রণালি হয়ে ক্রুডের নতুন চালান আসায় ফের উৎপাদন শুরু হয়।

ইআরএল-এর জন্য ক্রুড অয়েল আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পরিবহনের দায়িত্বে থাকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি’র একটি সূত্র জানায়, ক্রুড অয়েলের আরও একটি চালান মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনার প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ অক্টোবর জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারে। এটি মানদেব প্রণালি দিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। যদি এ পথে সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় এমটি নিনেমিয়ার মতো ধরতে হবে ঘুরপথ।

ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আপাতত ক্রুড অয়েলের সংকটের আশঙ্কা নেই। এমটি নিনেমিয়ায় আনা ক্রুড অয়েলে ২০-২৫ দিন চলবে। এছাড়া আগের স্টকও রয়েছে। সামনে সংকট হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী চালান কখন দেশে আসতে পারবে তার ওপর।

হুতি বিদ্রোহীরা মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী। তিনি বলেন, হরমুজে সমস্যা হওয়ার পর সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করছিল। যা বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে বিকল্প পথে পরিবহন হতো। এখান সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়েছে হুতি বিদ্রোহীদের হুমকির কারণে।

ক্যাপ্টেন আনাম বলেন, ‘আমাদের ক্রুড অয়েলের সর্বশেষ পার্সেলটি মানদেব প্রণালি হয়ে আসতে পারেনি। সেক্ষেত্রে ১০-১২ দিন সময় লাগতো। চালানটি সুয়েজ খাল পার হয়ে ভূমধ্য সাগর দিয়ে উত্তর আটলান্টিক-দক্ষিণ আটলন্টিক-আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ (অন্তমাশা অন্তরীপ) ও ভারত মহাসাগর হয়ে দেশে আসতে ৫২-৫৩ দিন লেগেছে। এতে সময় যেমন বেশি হচ্ছে, জাহাজ ভাড়াসহ আমদানি খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’

এ অবস্থায় জ্বালানির জন্য বিকল্প দেশ খোঁজার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো যেতে পারে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেবের আশপাশে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি প্রণালিটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা সৌদি আরব ছাড়া অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচল নিরাপদ বলে ঘোষণা দিলেও এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:১৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit