শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : চাকরিরত অবস্থায় ‎বেতন ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থানাসহ বিভিন্ন ইউনিটের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ২৮ জনকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে এসআই পর্যন্ত রয়েছেন।   

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা এবং ইউনিটের সদস্যদের এ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তালিকায় থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যদের নাম রয়েছে। 

‎পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা নিলে তার প্রভাব পুরো বাহিনীর ওপর পড়ে। 

বিশেষ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা গ্রহণ, তদন্ত কিংবা অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অপরাধীরা সুযোগ পায়, আর সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে। 

‎বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। কিন্তু আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পরও যদি কোনো সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত অসততার বিষয় থাকে না; বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির কাঠামোর দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। 

এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে শুধু বদলি বা ক্লোজ করার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

‎খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ জন্য আগে বাহিনীর ভেতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পুলিশের ওপর জনআস্থা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়। আইজিপি স্যারেরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। সে ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে এমন শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কিউএনবি/অনিমা/৩০ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৩৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit