ডেস্ক নিউজ : বিশ্বের জীবিত সবচেয়ে লম্বা ঘোড়া হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে শায়ার জাতের ঘোড়া হুগোর। চার বছর বয়সী এই ঘোড়ার উচ্চতা ইতোমধ্যে ১৯৯ সেন্টিমিটার বা প্রায় ৬ দশমিক ৫ ফুটে পৌঁছেছে। তবে হুগোর বেড়ে ওঠা এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন তার মালিক।
ইংল্যান্ডের নর্দাম্পটনশায়ারের টোস্টারে থাকা হুগোর উচ্চতা কাঁধ পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৬ হ্যান্ডস। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পক্ষ থেকে পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার উচ্চতা মাপা হয়। এ সময় ঘোড়াটির পায়ে কোনো নাল বা জুতো ছিল না।
হুগোর মালিক ব্রেট মাস্টার্স জানান, ঘোড়াটির নিয়মিত যত্নে রয়েছেন কাইরোপ্র্যাক্টর, দন্ত চিকিৎসক, ভেটেরিনারি সার্জন ও ম্যাসাজ বিশেষজ্ঞ। তার ভাষায়, হুগো অনেকটা ‘ফাইভ-স্টার জীবনযাপন’ করছে।
শায়ার জাতের ঘোড়া সাধারণত বিশাল আকৃতি ও দীর্ঘদেহের জন্য পরিচিত। অতীতে ভারী ওজন টানা, কৃষিকাজ এবং পরিবহনের মতো কাজে এই জাতের ঘোড়া ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
তবে নথিবদ্ধ ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা ও ভারী ঘোড়া ছিল ‘স্যাম্পসন’ নামের আরেকটি শায়ার ঘোড়া। পরে যার নাম দেওয়া হয় ‘ম্যামথ’। বেডফোর্ডশায়ারের টোডিংটন মিলসের থমাস ক্লিভার ঘোড়াটিকে লালন-পালন করেন। ১৮৫০ সালে স্যাম্পসনের উচ্চতা ছিল ২ দশমিক ১৯ মিটার বা ৭ ফুট ২ দশমিক ৫ ইঞ্চি।
মাস্টার্স ‘টোভ ভ্যালি শায়ার হর্সেস’-এর মালিক। তিনি জানান, শায়ার জাতের ঘোড়া লালন-পালন করা তার দীর্ঘদিনের আগ্রহ। হুগো স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা হুগোর বিশাল আকৃতির কথা শুনেছিলেন বলেও জানান তিনি।
মাস্টার্স বলেন, মাত্র ১৮ মাস বয়সে হুগোকে নিজের কাছে নেওয়ার সময় তিনি বুঝতে পারেননি যে ঘোড়াটি এতটা লম্বা হয়ে উঠবে। এখনো তার প্রায় তিন বছর পর্যন্ত বেড়ে ওঠার সময় রয়েছে। প্রায় সাড়ে আট বছর বয়স পর্যন্ত হুগোর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
তবে এত দ্রুত বেড়ে ওঠার কারণে হুগোকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। তার গ্রোথ প্লেটগুলো অতিমাত্রায় সক্রিয় বলে জানান মাস্টার্স। এ কারণে নিয়মিত কাইরোপ্র্যাক্টিক চিকিৎসা ও ম্যাসাজের পাশাপাশি প্রতি ছয় মাসে দন্ত চিকিৎসকের পরীক্ষা করানো হয়। ভেটেরিনারি চিকিৎসকরাও নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ ছাড়া তাকে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট ও পরিমিত বিশেষ খাবার।
হুগো বাইরে বের হলে মানুষের নজর কাড়ে। মাস্টার্স জানান, তাকে দেখলে অনেকেই থেমে যায়, ভিডিও ধারণ করে এবং তার বিশাল আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে। তবে আকারে বড় হলেও হুগো অত্যন্ত শান্ত ও দয়ালু স্বভাবের।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কোনো অর্থ পাননি মাস্টার্স। অবশ্য রসিকতা করে তিনি বলেন, কোনো গাজর চাষি হুগোর জন্য গাজর দিতে চাইলে সে তা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করবে।
বিভিন্ন প্রদর্শনীতে হুগোকে নিয়মিত অংশ নিতে হয়। সেখানে শায়ার জাতের ঘোড়াগুলো অতীতে কীভাবে কৃষি সরঞ্জাম টানা বা চাকার গাড়ি চালানোর কাজে ব্যবহৃত হতো, তা দেখানো হয়। বর্তমানে হুগোকে পিঠে মানুষ বহনের জন্য চড়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। মাস্টার্সের ভাষায়, হুগো বেশ শান্তিতেই আছে। সামান্য বাড়তি আদর-যত্ন পেলেই সে খুশি হয়ে যায়।
সূত্র : বিবিসি।
কিউএনবি/অনিমা/১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:৩৮