বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাবির মুহসীন হল থেকে গুমের ৭ বছর পার হলেও ন্যায়বিচার পাননি কোটা আন্দোলনের নেতা জালাল সন্তান গোপনে আপত্তিকর ভিডিও দেখার আগেই যেভাবে সাজাবেন ফোনের সেটিংস র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে প্রবাসীদের সঞ্চয় থেকে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলল চীন পুরোনো মুখ ভুলে নতুনদের দেখেই খুশি ‘হ্যারি পটার’ ভক্তরা ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী সন্তানদের বিষয়ে যে পরামর্শ কারিনার সোলার প্যানেল বসানোর আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

ঢাবির মুহসীন হল থেকে গুমের ৭ বছর পার হলেও ন্যায়বিচার পাননি কোটা আন্দোলনের নেতা জালাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ।
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : আজ থেকে সাত বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে ‘গুম’ হন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম “বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ” এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক এবং আইন-আদালত সেলের প্রধান সমন্বয়ক জালাল আহমদ। গুমের ৭ বছর পার হলেও ন্যায়বিচার পাননি তিনি ।

আওয়ামী লীগ সরকার ও ইউনুস সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তারা গুমের ব্যাপারে তদন্ত তো দূরের কথা, কোনো তদন্ত কমিটি পর্যন্ত গঠন করেনি । জানা গেছে, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পূর্ব শিলখালী গ্রামের সবুজ পাড়ার বাসিন্দা স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন ।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০১২ সালে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই মেডিকেল কলেজে ভর্তির নামে দলীয়করণ শুরু করলে জালাল আহমদ ২০১২ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রামে তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন । তিনি এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ছাত্রলীগ ও পুলিশের টার্গেটে পরিণত হন । তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও পরবর্তীতে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছিল ।

ফলে ২০১২-১৩ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগে ভর্তি হন। এ সময় তাকে মাইগ্রেশন করার সুযোগ দেয় নি জীববিজ্ঞান অনুষদের আওয়ামী লীগ সমর্থক ডিন অধ্যাপক তৌহিদ হোসেন । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০১৩ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ।পরে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩-১৪ ভর্তি সেশন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন ।২০১৩ সালের ১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে ১৬৩৭ তম মেধাতালিকায় অবস্থান অর্জন করলেও রহস্যজনক কারণে তাকে ঢাবির ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়।

সেই সময়কার সোশ্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টীর ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন তাকে বাদ দিয়ে ১৭৭২সিরিয়ালে থাকা এক মেয়ে কে ভর্তি করান।পরে ডিনের বিরুদ্ধে ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কাছে অভিযোগ করার পরেও কোন পদক্ষেপ নেন নি। তিনি এ সময় হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত নিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার সাথে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয় । 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি তার পূর্ব পরিচিত বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং দলের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে যোগাযোগ করেন । বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কে রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে ক‍্যাম্পাস কেন্দ্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি অনুরোধ করেন।তিনি আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করতে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের অনুমতি চাইলে তিনি মে মাসে কানাডা সফর থেকে ফিরে সময় দিবেন বলে জানান ।

তখন ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ সহ সারাদেশে বিভিন্ন সরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজের তালিকা ছিঁড়ে ছাত্রলীগ নিজেদের মতো করে তালিকা টাঙিয়ে দিয়েছিল।প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবী ডক্টর জাফর ইকবাল পর্যন্ত প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

হেফাজতের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলন এবং পরবর্তীতে বিএনপি জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর ‘অহিংস’ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি আদায় করার জন্য “আন্দোলনের মাস্টার প্ল্যান” তৈরির জন্য গবেষণা শুরু করেন । কারণ ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার দিন দিন শক্ত অবস্থানে চলে গিয়েছিল। কাজেই তাদের কে সরাতে হলে অবশ্যই দীর্ঘ মেয়াদী অহিংস আন্দোলন এবং স্বল্প মেয়াদী সহিংস আন্দোলন করতে হবে।

এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার জন্য তিনি আল্লাহ প্রেরিত এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহম্মদ( স:) এর নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়া বদরের যুদ্ধ, উহুদের যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয়ের ইতিহাস ও যুদ্ধের কৌশলগত দিক সম্পর্কে পড়াশোনা করেন।পৃথিবীর ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লব এবং রুশ বিপ্লব সম্পর্কে পড়াশোনা করেন । ভারতীয় উপমহাদেশের সিপাহি বিদ্রোহ, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন,ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান,একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কৌশলগত দিক সম্পর্কে পড়াশোনা করেন তিনি ।

আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার জন্য শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি প্রণয়ন করেন ।কলেজে মেধা তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি, সরকারী চাকরিতে মেধা ভিত্তিক নিয়োগ,কোটা পদ্ধতির সংস্কার—- ইত্যাদি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের জন্য আন্দোলনের “বিশাল মাস্টারপ্ল্যান” তৈরি করেন ।

পুলিশ আটক করার কারণে সেই সময় আন্দোলন যেভাবে ভেস্তে যায়:

২০১৪ সালে জুলাই মাসে তাদের পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় সামাজিক সমাধান না করে তাদের প্রতিবেশী কথিত ডাক্তার দাঁত মুসা মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্দনে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সেই মামলা ‘ডিল’ করতে থাকেন ।

মামলায় মিথ্যা এবং সাজানো ‘মেডিকেল রিপোর্ট’ থানায় জমা দেওয়া হলে তিনি পেকুয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এই রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রমাণ দেখতে চাইলে ২০১৩ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দলিল সংগ্রহ করেন ।কিন্তু ৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রেজেন্টেশন থাকায় তিনি ৬ ই আগস্ট সকালে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ৯ আগস্ট শনিবার পেকুয়া থানায় মামলার বিষয়ে আলোচনা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কে জানিয়ে দেন ।

৮ ই আগস্ট সকালে লেখাটি কিছুটা কাটাছেঁড়া করে
দুপুরে শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাশ দিয়ে গাড়ি থেকে নামলেই পুলিশ তাকে মোবাইল ট্র্যাকিং করে আটক করে।ডিবি পুলিশ ব্যাগ তল্লাশি করলে আন্দোলনের ‘খসড়া মাস্টার প্ল্যান’ পেয়ে যায়।যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ পেয়ে গেলো পুলিশ!
তবে মূলটা পায়নি। কারণ সেটা আরেকজনের একটি ল্যাপটপে জমা ছিল। পুলিশ “শিবির” আটক করেছে বলে টেলিভিশনের সামনে নিয়ে আসে তাকে। জুমার নামাজ পর্যন্ত পড়তে দেয় নাই পুলিশ। পল্টন থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পরও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায় করতে পারেনি।পুলিশ তার কাছে ইমেইল আইডি চাইলে তিনি ইমেইল আইডি দিলেও পাসওয়ার্ড ভুল দেন যাতে আইডি ওপেন করতেই না পারে।পল্টন থানার ওসি মোর্শেদ সহ পুলিশের টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সমস্ত দায়ভার কথিত আশিক ভাইয়ের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।

পুলিশ শত চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায় করতে না পারায় তাকে ডিবিতে নিয়ে যায়।ডিবি পুলিশ তাকে পল্টন থানা থেকে ডিবি অফিসে নেওয়ার সময় দোয়া-সূরা পড়তে থাকেন ।বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন পড়ে মন শক্ত করছিলাম।ডিবি অফিসে যাওয়ার পর মামলার বাদী মুসা পুলিশকে কল দিলে তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, মামলায় মিথ্যা তথ্য চ্যালেঞ্জ করার কারণে তাকে শিবির বানিয়ে নাটক সাজিয়ে আটক করা হয়েছে।সবকিছু আগে থেকে পরিকল্পিত।

ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কথিত আশিক ভাইয়ের উপর দোষ চাপিয়ে দেন।পরে পুলিশ ১০ দিন রিমান্ড চাইলে আদালত তিনদিন রিমান্ড মঞ্জুর করে। তাকে নির্যাতন করলেও খসড়া প্লান সম্পর্কে কোনো মুখ খুলে নি। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের কথিত আশিক ভাইয়ের উপর সব দায় চাপিয়ে দিয়ে কোন প্রকার রক্ষা পান।কিন্তু পুলিশ দুই মাস পর্যন্ত তদন্ত করে আশিক নামের কারো সন্ধান না হওয়ায় আবারও তাকে দশ দিন রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তখন ভিন্ন একটি কৌশলে আবার রেহাই খেলাম।কিন্তু সরকার বিরোধী ছাত্র হিসেবে প্রমাণ হওয়ার কারণে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে পুলিশ তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ ২২ মাস ‘রাজবন্দী’ হিসেবে কারাবন্দি থাকার পর সেই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৬ সালের ১৩ই এপ্রিল কাশিমপুর-৪ কারাগার থেকে মুক্তি মুক্তি পান ।তখন অনেকেই তাকে উন্নত রাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিদেশের মাটি থেকে সরকার পতন করা সম্ভব নয়।একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সরকার পতন করা সম্ভব।ফলে দেশের বাইরে যাই নি! পরে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সুপারিশে ভর্তি হন ২০১৬-১৭ সেশনে ।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে তিনি আবারও সরকার পতন আন্দোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে সাক্ষাৎ করতে গেলে ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে যোগদানকারী চবির বাংলা বিভাগের ছাত্র জামশেদুল কবির চবি ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আলম সহযোগিতায় তাকে পুলিশে দেন। ৩/৪ দিন চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।বিএনপি সরকারের আমলে সুবিধাভোগী জামশেদুল কবিরের পরিবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব না দিয়ে ফ‍্যাসিবাদ কায়েমে ভূমিকা পালন করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকায় হল থেকে জালাল কে বের করে দিয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা সানী:
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর জালাল কে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ৪৫৮ নাম্বার রুমটি বরাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ডিসেম্বর মাসে তাকে ৪৫৮ নাম্বার রুমের পরিবর্তে ৪৬২ নাম্বার রুমটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে তিনি রুমে উঠতে পারেন নি। কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ দিবাগত রাতে তাকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ৩৫১ নাম্বার রুম থেকে মারধর করে বের দিয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা তারেক হাসান নির্ঝর এবং হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানীর সাঙ্গাপাঙ্গরা। লিখিত অভিযোগ দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন নি প্রশাসন ।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকার পতনের চেষ্টা ছিলো:

প্রথাগত আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন সম্ভব নয় বলেই ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করেছিলেন তিনি ।শুধুমাত্র ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হওয়ার কারণেই তাকে সামনের সারিতে রাখা হয় নাই। তবু তিনি হাল ছাড়েননি ।২০১৮ সালের জুলাই মাসে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের বহুমুখী আক্রমণে কোটা আন্দোলন যখন নেতৃত্ব শূন্য হয়, তখন তিনি সামনে চলে আসেন ।ওই সময় কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল নিউজ করেছিল ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি জালাল’। তিনি এসব পাত্তাই দেয় নাই।কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাঝখানে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু হলে ঐ আন্দোলনেও তিনি তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ।কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি । কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পাইনি বলেই সম্ভব হয়নি ।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন কে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি ।কিছু সহযোদ্ধা বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণে পারেননি তিনি ।আন্দোলন থেমে গেলে ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে উচ্চ আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নেন।তিনি কোটা বাতিলের পরিবর্তে কোটা সংস্কার, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও নিরাপদ হলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে গিয়ে বৈঠক করেন।কিন্তু
চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার প্রাক্কালে আমাকে ‘গুম’ করা হয়।

গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গুমের অভিযোগ:
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাতিরপুলের একটি বাসায় থাকাকালীন সময়ে কিছু গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে নিয়মিত ‘ফলো’ করতো।তিনি যেখানেই যেতেন, সেখানেই তারা তার পথচলা ‘ফলো’ করতো।এ রকম পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছনে নাটমন্ডলের গেটের সামনে বসার টেবিলে মাথা রেখে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে যায় জালাল ।মোবাইল অন রেখে তিনি পরীক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন যে নির্জন স্থানে নিজেকে লুকিয়ে রাখলে তাকে কেউ ‘ফলো’ করতে আসে কিনা?
জালালের এই কৌশল কাজে আসে। কিছুক্ষণ পর তিন জন লোক এসে তাকে বলেন, “আপনি তো নাটমন্ডলের কেউ না। আপনি এখানে মাথা রেখে ‘রেস্ট’ নিচ্ছেন কেন? জালাল তাদের কে বলেন “তাহলে আমি কোন বিভাগের স্টুডেন্ট?তারা জানালেন “আপনি টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফির স্টুডেন্ট। জালাল তাদের কে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, “আমি যে টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফির বিভাগের স্টুডেন্ট আপনারা কিভাবে জানেন? তখন তারা কোন উত্তর দেয়নি।

তারপর সেখান থেকে উঠে তিনি কেন্দ্রীয় মসজিদের ভিতরে বারান্দায় গিয়ে রেস্ট নেন।তখনো গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন গুলো তাকে অনুসরণ করে।সেখান থেকে দুপুরের নামাজের পরে তিনি দুপুরের খাবার খেতে হাতিরপুলের বাসায় চলে যাওয়ার সময় আরেকটি দল তাকে ‘ফলো’ করে।তাদের একজন কালো বোরকা পরা মহিলা এবং সাদা পাঞ্জাবি টুপি পরা পুরুষ ছিল। জালাল তাদেরকে ‘ধোকা’ দিয়ে ‘বোকা’ বানিয়ে পরীক্ষা করার জন্য পিজি হাসপাতালে সংলগ্ন রাস্তায় হঠাৎ ‘ইউটার্ন’ নিয়ে রোগীদের বসার জায়গায় হঠাৎ বসে গেলে তারা পেছনে হাঁটা শুরু করে। তিনি তখন একেবারেই নিশ্চিত যে তাকে ‘গুম’ করার জন্য গোয়েন্দা সংস্কার লোকজন অনুসরণ করছে।”

তিনি তখন বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালে তারা কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেননি।সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারের ইন্টারন্যাশনাল হল সংলগ্ন বাসায় গিয়ে তাকে ‘সম্ভাব্য’ গুমের কথা অবহিত করেন।তিনি তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।”

জালাল তখনো হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের বৈধ আবাসিক ছাত্র। কিন্তু রুমে থাকতে পারে না।তিনি তখন ঢাকা শহরের কোন জায়গায় থাকলে ‘গুম’ এড়াতে পারবে তা খোঁজছিলেন।কোথাও কোন রুম না পেয়ে তিনি চিন্তা করলেন নিজের ‘হলে’ থাকলেই ‘গুম’ এড়ানো সম্ভব। আবাসিক ছাত্র হিসেবে তাকে হল থেকে গুম করলে হল প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।এমন চিন্তা থেকেই ২ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ২০১১-১২ সেশনের বন্ধু, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিলন ঘরামির ৩ এর (ক) নাম্বার রুমে থাকার জন্য আবদার করলে তাকে থাকতে দেওয়া হয়।”

যেভাবে গুম করা হয়েছিল :
৩ সেপ্টেম্বর সকালে বিষয়টি তার বিভাগের তাদের ব্যাচের ‘সি আর’ সোহেল এর মাধ্যমে স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার এস এম ইমরান হোসেন এর কাছে অবহিত করেন। হলে অবস্থানকালে দুপুরের পর থেকে তার মোবাইলের স্ক্রীনে একটি লেখা ভেসে ওঠে ! ‘A car is riding around you’- ‘একটি গাড়ি আপনার আশেপাশে ঘুরছে’।
তিনি তখন বুঝতে পারেন যে তাকে ‘গুম’ করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তার অবস্থান শনাক্ত করতেছে। এরপর মোবাইলে তার কাছে অটোমেটিকালি অতীতের বিভিন্ন আজেবাজে রাজনৈতিক নিউজের লিঙ্ক আসে।
মূলত এভাবে আজেবাজে নিউজ পাঠিয়ে কোন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাকে তথ্যপ্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় ‘পিশিং’।

সেদিন আসরের নামাজের পরেই ঐ রুমে
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একের পর এক আসতে এবং যেতে থাকে।তার সামনেই শিবিরের বিভিন্ন সাংগঠনিক বই, ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন বই রেখে যায় ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব। তখন তার মোবাইলের নেটওয়ার্ক অচল।নেটওয়ার্ক অচল হওয়ার আগে ফেসবুকে ধারাবাহিক কিছু পোস্ট করেন, যেখানে গুমের সম্ভাব্য বিষয়টি জানিয়ে ইঙ্গিত দেন।
ফলে তার রাজনৈতিক সহকর্মী,কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহযোদ্ধা ও গণমাধ্যম কর্মীরা এই বিষয়টি আন্দাজ করতে পারেন।ঠিক মাগরিবের নামাজের সময় তারা জালাল কে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়।তিনি হল থেকে বের হতে রাজি ছিলেন না। একপর্যায়ে মুহসীন হলের ৪ শ্রেণীর কর্মচারী রাসেলকে নিয়ে আসে তারা।তিনি জালাল কে বলেন “আপনাকে হল প্রশাসন ডাকছে”।

ইতিমধ্যে তার মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়। হল প্রশাসনের কথা বলায় তিনি রুম থেকে বের হতে রাজি হন।রুম হতে বের হতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ছাত্র এবং হল ছাত্রলীগ নেতা জিসান তাকে ধরে ফেলে। তারপরেই তাকে ধরতে আসে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ছাত্র রিয়াজ তারেক।

তারা যখনই তাকে মুহসীন হলের নিচ তলায় সেলুনের কাছে নিয়ে আসে, তাদের সাথে যোগ দেন হলের আরেক কর্মচারী শিবলু। এর পর শিবলু সহ তারা তাকে হলের গেস্ট রুমে নিয়ে আসে।গেস্টরুমে নিয়ে যাওয়ার পরই তার ‘মুখে এবং চোখে’ কাপড় বেঁধে মাথায় ইনজেকশন পুশ করে। ফলে তার ‘ব্রেন’ উঠানামা করতে থাকে। তিনি তখন অপরিচিত কাউকে চিনতে পারছিলেন না।

ছাত্রলীগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় গুম:
হলের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সাইফুল ইসলাম রিমন সহ কয়েকজন কর্মচারীদের সহায়তায় ছাত্রলীগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গেস্টরুম থেকে হলের গেটে আগে থেকে অপেক্ষারত পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় জালাল কে। পুলিশের সঙ্গে ছিল মোটরসাইকেল আরোহী অস্ত্রধারীরা। মুহসীন হলের গেট থেকে দক্ষিণ দিকে যতদূর দেখা যায়, ততদূর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের মহড়া দেখেছেন তিনি । পুলিশ তাকে বলেন,”পেছনে সব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।তোমাকে গুলি করলে তুমি মাথা নিচু করে এখানে(গাড়ীর মেঝেতে) শুয়ে পড়বা।”

এরপর তাকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় সার্জারি রুমে নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন অজ্ঞাত লোকজন ।তাদের শেষ প্রশ্ন ছিল “তুমি কী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে ভালোবাসো নাকি তোমার জীবনকে বেশি ভালোবাসো? তিনি বললেন যে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে বেশি ভালবাসি। তখনই একজন জানান, “এইতো সাবাস বেটা। ঠিক আছে। তোর কথা উপরের লেভেলকে জানিয়ে দিচ্ছি।”

ঢাবির মেডিকেল সেন্টারে জালালের জিহ্বায় ইলেকট্রিক শক :
জালাল কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের বিছানায় শোয়ায়ে তার জিহ্বায় ইলেকট্রিক শক দিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলা হয়।বিছানার বালিশের পাশে দুইটি পয়সা রাখা হয়। তার ব্রেন তখন উঠানামা করছিল।ব্রেন একটু স্থির হলেই পয়সা গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখতেন । সেখানে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সাইফুল ইসলাম রিমন উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাকে শিখিয়ে দেন, তুমি বলো ‘Go and stop’. এর কিছুক্ষণ পর তাকে নির্যাতনকারী লোকজন তাদের যন্ত্রপাতি নিয়ে মেডিকেল সেন্টার ত্যাগ করে ।”

যেভাবে উদ্ধার করা হয়:

জালাল এর ব্রেন একটু স্থির হলেই তিনি তার পরিচিত নিজ এলাকার দুই ছোট ভাইকে কল দেন। তাদের মধ্যে একজন পাশ্ববর্তী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল। পরে এলাকার তিনজন ছোট ভাই এসে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। তখন একজন ছোট ভাই তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের এক্সটেনশন ভবনের নিচতলায় তার রুম নিয়ে যায়। পরদিন সকালে জালালের বড় ভাই আবুল কাশেম তাকে ওই হল থেকে নিয়ে যায়।

দীর্ঘ দুই বছর পর সুস্থ হন জালাল :
তার বড় ভাই তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে ডাক্তার দেখায়। ডাক্তার তখনো ‘আসল’ কাহিনী ধরতে পারেনি। কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ জন ডাক্তারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রায় দুই বছর চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠেন জালাল । চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এক মাসের বেশি। তবে বাকশক্তি পুরোপুরি ফিরে পাননি তিনি ।তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হলে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সুপারিশে পুন:ভর্তি হন।২০২৩ সালে অনার্সের শেষ পরীক্ষা দিয়ে ২০২৪ সালে স্নাতক পাশ করেন। তিনি ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। তিনি আন্দোলনের সময় আইন ও আদালত সেলের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

লিখিত অভিযোগ দিলেও বিচার পাননি জালাল :

মুহসীন হলের তিনজন কর্মচারী এবং ছাত্রলীগের দুইজন নেতা কে চিনতে পেরেছিলেন তিনি । বাকিদের চিনতে পারে নি। তদন্ত কমিটি গঠন করে তাকে গুমের সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়ে জালাল ২০২২ সালের জুন মাসে তৎকালীন উপাচার্য আখতারুজ্জামান কে একটি আবেদন করলে তিনি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোঃ মাসুদুর রহমানকে বিষয়টি ফরওয়ার্ড করে দেন।হল প্রশাসন তদন্ত কমিটি না করে উল্টো তাকে হয়রানি করার জন্য ছাত্রলীগের ছেলেদের কে দিয়ে তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে একটি ‘অভিযোগ’ আনার ব্যবস্থা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার জালাল :
২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার এডমিট কার্ড ডাউনলোড থেকে শুরু করে অনার্স সম্পন্নের পর মাস্টার্সে ভর্তি পর্যন্ত পদে পদে প্রশাসন তাকে হয়রানি করেছেন। তিনিও উপরের মহান আল্লাহর প্রতি শতভাগ আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে নিজের সমস্ত জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা, সততা ও সাহস নিয়ে সব অপকর্ম এবং অপকৌশল মোকাবেলা করেছেন। এই কৌশল মোকাবেলা করতে গিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অলিগলি, চিপা চাপা, একাডেমি ভবন, হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন- কানুন জানতে হয়েছে।”

অভিযোগ গ্রহণ ই করেননি মাকসুদ কামাল :
জালাল ২০২৩ সালের নভেম্বরে নবাগত ভিসি এ এস এম মাকসুদ কামাল কে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর জন্য গেলে তিনি তা গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাই ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি ডাকযোগে ‘এডি’ সহ অভিযোগ পাঠিয়ে দেন। ১৯ ডিসেম্বর তার কাছে চিঠির প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আসে। এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত ০৪ সেপ্টেম্বর (২০২৪ খ্রিস্টাব্দ) বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অফিসে নবাগত ভিসি প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি ।

প্রতি বছর আবাসিক ফি পরিশোধ করেও হলে উঠতে পারেনি জালাল :
প্রতি বছর আবাসিক ছাত্র হিসেবে আবাসিক ফি পরিশোধ করে আসছে জালাল।
কিন্তু তৎকালীন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ডঃ মোঃ নিজামুল হক ভূঁইয়া এবং প্রভোস্ট অধ্যাপক ডঃ মোঃ মাসুদুর রহমান বরাবর বার বার লিখিতভাবে আবেদন করলেও হল প্রশাসন তাকে ৪৬২ নাম্বার রুমটি বুঝিয়ে দিতে পারে নি। ফলে তাকে বাধ্য হয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে।শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হলে উঠেন ।কিন্তু একটা মহল ডাকসু নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তাকে মব কালচারের মাধ্যমে কারাবন্দি করেন। মবের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উকিল নোটিশ দিলেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি ।

গুমের সাত বছর পর ন্যায়বিচারে সহযোগিতা কামনা :
আজ জালাল কে গুমের সাত বছর পূর্ণ হল।বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি দক্ষতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে গুমের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি আদালতের আশ্রয় নিতে চান। তাই অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সহ গুমের সাথে জড়িত সবার তথ্য প্রদান সহ সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি । তাকে কেন গুম করা হয়েছিল তা আজ পর্যন্ত জানতে পারে নি । তিনি চান তার গুমের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হোক ।

কিউএনবি/আয়শা/০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit