আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিম্নকক্ষ কংগ্রেসের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির হেরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। যদি বড় ব্যবধানে হেরে যায়, তবে তার দায় আগেভাগেই তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এমন কিন্তু যুক্তি সম্পূর্ণ ভুল।
সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্যটি স্পষ্ট হয়েছে যে চলতি বছরের শেষ দিকে যদি তার দল হেরে যায়, তবে তার জন্য তিনি কতটা দায়ী থাকবেন। গত রোববার প্রচারিত ফক্স নিউজের উপস্থাপক ট্রে গাউডির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে, ট্রাম্প মূলত এই প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার প্রচারণার মূল ফোকাস থাকবে নিজের অতীতের রেকর্ড বা কর্মকাণ্ড তুলে ধরা। তিনি বলেন, আমি নিজের জন্য যেভাবে প্রচারণা চালিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই প্রচারণা চালাব।
ট্রাম্প আরো বলেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিম্নকক্ষ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হয়ে সর্বোচ্চ প্রচারণা চালানোর। ট্রাম্পের দাবি, ভোটাররা রিপাবলিকান পর্টির চেয়ে তাকে বেশি পছন্দ করেন। এটি প্রেসিডেন্টের আগের মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। তিনি একই কথা পাঞ্চবোল নিউজকে বলেছিলেন, ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ, কিন্তু আমার ওপর ক্ষুব্ধ নন। নির্বাচনের আগে নিজের দলের সম্পর্কে এমন মন্তব্য চোখে পরার মতো। ট্রাম্পের এ ধরণের বক্তব্য দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের কারণ। ট্রাম্পের এ কথাও যুক্তিহীন যে অনেক মানুষ আছেন যারা ট্রাম্পকে পছন্দ করেন কিন্তু তার দলকে নয়।
এ বিষয়ে সিএনএন গত মাসে একটি জরিপ করে। এতে দেখা গেছে, রিপাবলিকান পার্টির ভাবমূর্তি নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। দলটির প্রতি ৫২ শতাংশ মানুষের নেতিবাচক ধারণা ছিল, যেখানে ইতিবাচক ধারণা ছিল ৩১ শতাংশের। বাকিরা মতামত দেননি। তবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার আরও বেশি নেতিবাচক অবস্থানে ছিল; ৬৬ শতাংশ আমেরিকান তাকে সমর্থন করেননি, আর সমর্থন জানিয়েছিলেন ৩৪ শতাংশ। সিবিএসও এই মোসে একটি জরিপ করে, যখানে ৪০-৬০ শতাংশ আমেরিকান রিপাবলিকানদের অপছন্দ করেন। জুলাইয়ের জরিপে দেখা যায়, আমেরিকান ৩৯-৬১ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে সমর্থন করেনন না।
এমনকি মার্কুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় ল স্কুলে করা জরিপেও দেখা যায় ট্রাম্প ও তাঁর দলের সমর্থক খুবই কম। এই জরিপে দল হিসেবে রিপাবলিকান পার্টির ভাবমূর্তিও যাচাই করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে দল ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি ৬০ শতাংশ আমেরিকান নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং ৩৯ শতাংশ ইতিবাচক; অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৫৮ শতাংশ ও ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ, ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টি—উভয়ই প্রায় সমানভাবে অজনপ্রিয়। অথচ ট্রাম্প দাবি করে থাকেন যে মানুষ তাকে পছন্দ করলেও অন্য রিপাবলিকানদের পছন্দ করে না। আর বিষয়টি আসলে বেশ অস্বাভাবিক।
সাধারণত রাজনীতিবিদরা তাদের দল বা দলের অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে থাকেন, কারণ অধিকাংশ মানুষই রাজনৈতিক দলগুলোকে খুব একটা পছন্দ করেন না। প্রকৃতপক্ষে, ২০০৬ সাল থেকে সিএনএন-এর পরিচালিত জরিপগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, মোট ৬৭টি জরিপের মধ্যে ৪৯টিতেই অন্তত ৫০ শতাংশ আমেরিকান রিপাবলিকান পার্টিকে অপছন্দ করেছেন। তাছাড়া, রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম) সমস্যাগুলোর মূল কারণ যে দলের আইনপ্রণেতারা—এমনটা মনে করার মতো যথেষ্ট কারণ নেই; বরং সমস্যাগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে যে ট্রাম্পই রয়েছেন, তা বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:৫০