সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুবদল নেতা সাজ্জাদুল মিরাজের বড় ছেলে রোজান আর নেই প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তর, স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে যুবতীর অনশন গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা বিচারকের খাস কামরায় গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ কক্সবাজার কারাগারে মাদক মামলার আসামির মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে ২ লাখ বর্গমিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস ‘আলাদা দেশ হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা চায়’, কানাডা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের বালু পাথরের টুকরোয় মিলল হাজার বছরের পুরোনো শহরের খোঁজ হত্যার পর গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে খুনিরা: পুলিশ ছাগল খুঁজতে গিয়ে মিলল স্বর্ণের খোঁজ, ছুটছে ১০ হাজার মানুষ

প্রাচুর্য ও বরকত লাভের কার্যকর আমল

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : বরকত অর্থ হলো কল্যাণ ও প্রাচুর্য। কোনো জিনিসে বরকত হওয়ার অর্থ হলো, সে জিনিসের মঙ্গলময়তা ও কল্যাণময়তায় প্রাচুর্য সাধন ও তার স্থায়িত্ব লাভ। অর্থাৎ কোনো জিনিসের ইতিবাচক দিকের গুণগত মান বৃদ্ধি পাওয়াই হচ্ছে সেই জিনিসের বরকত। যেমন—টাকা-পয়সার বরকত হওয়ার অর্থ, টাকা-পয়সা মঙ্গল ও কল্যাণের পথে ব্যবহৃত হওয়া। যে কাজে টাকা-পয়সা ব্যয়িত হবে সে কাজের মঙ্গলময়তা ও কল্যাণময়তায় প্রাচুর্য সাধিত হওয়া এবং তার মঙ্গলময়তা ও কল্যাণময়তা স্থায়িত্ব লাভ করা। জীবনে বরকত মানে শুধু সম্পদ বৃদ্ধি নয়।

অল্প সম্পদে তৃপ্তি, অল্প সময়ে বেশি ভালো কাজ করার তাওফিক, পরিবারে শান্তি, রিজিকে প্রশস্ততা এবং জীবনের প্রতিটি কাজে কল্যাণ, এসবই বরকতের অন্তর্ভুক্ত। কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত লাভের কারণ হতে পারে। হারাম থেকে বেঁচে থাকা ও তাকওয়া অবলম্বন করা : জীবনে বরকতের অন্যতম বড় চাবিকাঠি হলো তাকওয়া। হারাম উপার্জন, সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, জুলুম ও অন্যান্য হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)

কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা : খাওয়া, ঘরে প্রবেশসহ বিভিন্ন ভালো কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আদব। এর মাধ্যমে শয়তানের অংশগ্রহণ থেকে নিজেকে ও নিজের ঘরকে রক্ষা করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যখন তার ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের সময় ও খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে, ‘তোমাদের এখানে রাত কাটানোর স্থানও নেই, খাবারও নেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০১৮)

কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখা : কোরআন নিজেই একটি বরকতময় কিতাব। তাই কোরআনের গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা, নিয়মিত তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা, চিন্তা করা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা মুমিনের জীবনে কল্যাণের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ বলেন, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ২৯)

তাই প্রতিদিন কোরআনের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা উচিত। শুধু তিলাওয়াত নয়, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়াই হবে প্রকৃত সম্পর্ক। নিয়মিত দান-সাদাকাহ করা : সাদকাহ সম্পদ কমিয়ে দেয় না; বরং নিয়মিত দান-সাদাকাহ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও কল্যাণের আশা করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাদাকাহ সম্পদ কমায় না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৮)

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়; বরং ভালোবাসা, খোঁজখবর, সহযোগিতা ও ক্ষমার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৫৭)

দিনের শুরুটা কাজে লাগানো : ইসলামে দিনের শুরুর সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের দিনের শুরুর সময়ে বরকত দান করুন।’

সাখর আল-গামিদি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো বাহিনী পাঠাতেন, দিনের প্রথম ভাগে পাঠাতেন। তিনি নিজেও ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দিনের শুরুতে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতেন। ফলে তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছিল। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১২১২)

নিজের ও পরিবারের সালাতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া : নিজে নামাজ পড়ার পাশাপাশি পরিবারকেও নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করা মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা পরিবারের নামাজের সঙ্গে রিজিক ও কল্যাণের বিষয়টি একই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে রিজিক চাই না; আমিই আপনাকে রিজিক দিই।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ১৩২)

বেশি বেশি ইস্তিগফার করা : ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; কোরআনে এর সঙ্গে বৃষ্টি, সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও বিভিন্ন দুনিয়াবি নিয়ামতের সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়েছে। নুহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘আমি বললাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন।’ (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২)

তাই প্রতিদিন বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া এবং গুনাহ থেকে আন্তরিকভাবে তাওবা করা উচিত।

সালামের প্রচার ও প্রসার করা : সালাম শুধু একটি সম্ভাষণ নয়; এটি মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব তৈরির মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সালামের প্রচলন করো। এর আগে তিনি বলেছেন, পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি না হলে পূর্ণ ঈমান অর্জিত হয় না; এরপর পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবে সালাম প্রচারের কথা বলেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৪)

তাই পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু, সহকর্মী-সবার সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে সমাজে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। এবং আল্লাহ তাআলা কল্যাণ ও বারাকাহ দেবেন।

আল্লাহ আমাদের রিজিক, সময়, পরিবার, আমল ও সমগ্র জীবনে বরকত দান করুন। আমিন।

কিউএনবি/অনিমা/২৩ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১০:৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit