আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ও সংসার ভেঙে যাওয়ার পেছনে বাবা-মাকে দায়ী করে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভারতের গুজরাটের দাহোদ জেলায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্তের নাম বাবুভাই পারগি এবং নিহতের নাম ভালাভাই পারগি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে বাবুভাই পারগির বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি চরম অ্যালকোহল ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও ঝগড়াঝাঁটি করতেন। স্বামীর ক্রমাগত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে বাবার বাড়ি চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি।
সংসার ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই বাবুভাই তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে এই বিচ্ছেদের জন্য দায়ী করতে শুরু করেন। কাজ শেষে গ্রামে ফিরলেই তিনি মাতাল অবস্থায় বাবা-মায়ের ওপর চড়াও হতেন এবং তাদের কারণে স্ত্রী বাড়ি ছেড়েছে বলে গালিগালাজ ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন।
মঙ্গলবারও একই বিষয় নিয়ে পরিবারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুভাই ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ভারী কাঠের লাঠি দিয়ে তার ৭০ বছর বয়সী বাবা ভালাভাই পারগির মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধ ভালাভাই।
ঘটনার পরপরই পরিবারের অন্য সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের ছোট ছেলে কালজীভাই পারগি ফাতেপুরা থানায় নিজের বড় ভাই বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কিউএনবি/অনিমা/২১ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:৩১