সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন

আজও হুমায়ূন আহমেদের অপেক্ষায় হিমু-রুপা আর মিসির আলিরা!

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬ Time View

বিনোদন ডেস্ক : তবে এখনো তিনি আছেন গান-নাটক আর হিমু-রুপাদের সংলাপে-সংগীতে। আজকের দিনে এসব চরিত্র যেন আরও অনবদ্য হয়ে উঠেছে।

১. হিমু: হুমায়ূন আহমেদ তার লেখনীতে অনেক চরিত্র জীবন্ত করে তুলেছেন তার মধ্যে অন্যতম ‘হিমু’। হিমু বিষয়ক অনেক বই লিখেছেন তিনি। হিমু চরিত্র নিয়ে তার প্রথম বই ‘ময়ূরাক্ষী’। আজও হিমুর জনপ্রিয়তা কমেনি। হিমু সবসময় হলুদ পাঞ্জাবি পরে। সেই পাঞ্জাবির পকেট নেই। হিমু খালি পায়ে ঘুরে বেড়ায়। শহরময় কখনও কখনও হাঁটে। উপন্যাসের হিমুর প্রতি লাখো পাঠকের ভালোবাসা প্রবল।
 
২. মিসির আলি: মিসির আলি চরিত্রটি একজন মেধাবী অথচ বিষণ্ণ মনোবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক। তিনি অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেন। মিসির আলির চরিত্র রহস্য ও বিজ্ঞানকে একত্রিত করে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তোলে।
 
৩. বাকের ভাই: টেলিভিশন নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’-এর অন্যতম প্রধান চরিত্র বাকের ভাই ছিলেন একজন প্রতিবাদী এবং সাহসী যুবক। এই চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, নাটকের শেষে তার মৃত্যুর পর দর্শকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছিলেন। এই চরিত্রে অভিনয় করে টিভি নাটকের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। আজও তাকে ‘বাকের ভাই’ বলে সম্বোধন করেন অনেকে।
 
৪. রুপা: ‘হিমু’ সিরিজের অন্যতম প্রধান নারী চরিত্র রূপা। তিনি হিমুকে ভালোবাসেন এবং তার জীবনধারাকে আকর্ষণীয় মনে করেন। রূপার চরিত্রে নারীর কোমলতা ও সাহসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
 
৫. শুভ্র: শুভ্র চরিত্রটি একটি নিখুঁত এবং সাধারণ চরিত্র, যা হুমায়ূন আহমেদের অন্যরকম সৃষ্টির উদাহরণ। শুভ্র একজন সহজ-সরল এবং ন্যায়পরায়ণ যুবক, যার জীবন দর্শন খুবই ইতিবাচক।
 
৬. মুনা: ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের অন্যতম প্রধান চরিত্র মুনা। মুনাকে ঘিরেই নাটকটির গল্প এগিয়ে যায়। ‘কোথাও কেউ নেই’ উপন্যাসেও তাই। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের নামকরণও সার্থক মুনার জন্য। কেননা- মুনার আসলেই কেউ নেই। মুনা মামার বাড়িতে আশ্রিতা মেয়ে। অপরদিকে, মুনা মামুন নামের এক যুবককে ভালোবাসতেন। মামুন একসময় বিয়ে করে ফেলেন। মুনা ভীষণ একা হয়ে যান। একসময় বাকের ভাইকে ভালো লাগে মুনার। কিন্তু নিয়তির লিখনে বাকের ভাই তার কপালে নেই।
 
৭. কুসুম: ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমাটি বিভিন্ন কারণেই একটি আলোচিত সিনেমা। সুধী মহলে এই সিনেমাটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সিনেমা এই সিনেমার আবেদন এখনও দর্শকদের মাঝে রয়ে গেছে। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমায় কুসুম চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান মেহের আফরোজ শাওন। দর্শকরা ওই সময় কুসুম বলে ডাকতেন তাকে।
 
৮. মতি: হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন ফারুক আহমেদ। নানারকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। কিন্তু ফারুক আহমেদ সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেছেন মতি চরিত্রে অভিনয় করে। এজন্য দর্শকরাও তাকে মতি বলে ডাকতেন। হুমায়ূন আহমেদও ফারুক আহমেদকে ডাকতেন মতি বলে।
 
৯. আনিস: আনিস চরিত্রটি মূলত নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের একজন তরুণের। অপরদিকে, ‘আজ রবিবার’ ধারাবাহিক নাটকের নায়কের নামও আনিস। যে কিনা সারাক্ষণ ঘরে বসে পড়ালেখা করে, চশমা ছাড়া কিছুই দেখে না। শিলা আহমেদ ও মেহের আফরোজ শাওন আনিসকে ভয় দেখানোর জন্য সবসময় পেছনে লেগেই থাকে। আনিস চরিত্রে ‘আজ রবিবার’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন জাহিদ হাসান।

এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট অনেক ছোট এবং বড় চরিত্র আছে, যেমন কাজল, নিলু, শফিক, রানা প্রভৃতি, যারা তার গল্প ও উপন্যাসে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এসব চরিত্র বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে এবং পাঠকদের মনে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit