সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

পাহাড়ি দুর্যোগে বিপর্যস্ত রাঙামাটির খামারিরা, প্রাণিসম্পদে ক্ষতি দেড় কোটি টাকা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৬ Time View

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি : টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় রাঙামাটি জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে জেলার ১০ উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের হাজারো প্রান্তিক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, পশুখাদ্য ও চারণভূমির ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ১ কোটি ৫৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা ক্ষতির হিসাব করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম প্রতিবেদককে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্যোগে প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্যোগে জেলার ১৮৫টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খামারে থাকা ১ হাজার ২২০টি গবাদিপশু ক্ষতির মুখে পড়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। এছাড়া ১৬৬টি হাঁস-মুরগির খামারে থাকা ৩৭ হাজার ৯২৮টি হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৬১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

একই সঙ্গে ৭৪ টন দানাদার পশুখাদ্য, ১ হাজার ১২৪ টন খড় এবং ৫৪২ টন ঘাস নষ্ট হয়েছে। এসবের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ যথাক্রমে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার, ২৪ লাখ ২০ হাজার এবং ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের পশুপাখি মারা গেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পৃথক তালিকায় দেখা গেছে, জেলার ২৬টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৪২৮টি গরু, ২৮টি মহিষ, ৬ হাজার ৬৬২টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১৭ হাজার ৮০৯টি মুরগি এবং ৭ হাজার ৩৮৮টি হাঁস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি গরু ও ২ হাজার ৫০০টি মুরগি মারা গেছে। এছাড়া ১ হাজার ৫৫০ দশমিক ৫০ একর চারণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসেবে রাঙামাটি সদরের ৩টি, নানিয়ারচরের ৪টি, লংগদুর ২টি, কাউখালীর ১টি, বরকলের ৫টি, বিলাইছড়ির ১টি, রাজস্থলীর ২টি এবং বাঘাইছড়ির ৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৬টি ইউনিয়ন এই দুর্যোগের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের মধ্যেও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৩টি গবাদিপশু ও ৬ হাজার ৬২০টি হাঁস-মুরগিকে টিকা প্রদান এবং ৩ হাজার ২৭টি গবাদিপশু ও ১১ হাজার ৪২৫টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম টিকাদান, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের চলমান এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারিদের পুনর্বাসন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং পাহাড়ের প্রাণিসম্পদ খাত আবারও সচল হয়ে উঠবে।

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় রাঙামাটির কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সরকারি আর্থিক সহায়তা, পশুখাদ্য, পুনর্বাসন প্যাকেজ এবং সহজ শর্তে প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবিকা পুনরুদ্ধার সহজ হবে এবং পাহাড়ের অর্থনীতি আবারও সচল হতে শুরু করবে।

কিউএনবি/আয়শা/১৭ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit