স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দেশটির রাজধানী প্যারিসে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি ও মর্টার নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা। এ ঘটনায় অন্তত ১৬০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর যানবাহন লক্ষ্য করে মর্টার ফায়ার করা, অগ্নিসংযোগ এবং চুরির মতো অপরাধ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের উপকণ্ঠে রেমন্ড কুনো সড়কে অন্তত ১২টি ময়লার কনটেইনারে আগুন দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও মর্টার নিক্ষেপ করা হয়। যদিও এতে কেউ আহত হয়নি।
এছাড়া একটি হাইপারক্যাশার সুপারমার্কেটেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। হামলায় দোকানটির একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়।
প্রসিকিউটরস অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, ১৪ থেকে ১৫ জুলাই রাতের মধ্যে মোট ৯৮ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ২১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে চুরি এবং দাহ্য পদার্থ বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বা অভিযোগের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এবারের কারণ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বাস্তিল দিবসের দিন। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ দখলের স্মরণে প্রতি বছর দিবসটি উদযাপন করা হয়। যা ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। জাতীয় দিবস উপলক্ষে একদিন আগেই বিভিন্ন স্থানে উৎসব ও উদযাপন শুরু হয়েছিল। সে রাতেও বিভিন্ন ঘটনায় আরও ৩৫ জনকে আটক করেছিল পুলিশ।
জাতীয় দিবসের উদ্যাপন এবং বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল একই দিনে হওয়ায় আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করেছিল প্যারিস পুলিশ। শহরে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ৫ হাজার পুলিশ সদস্য। তাদের সহায়তায় মোতায়েন করা হয় আরও ২ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য এবং প্রায় ২ হাজার দমকলকর্মী। পাশাপাশি রাস্তায় প্রকাশ্যে মদ্যপান এবং আতশবাজি বহনের ওপরও বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ম্যাচ শেষে সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।
খেলার মাঠে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন শুরু থেকেই দাপট দেখায়। প্রথমার্ধে মিকেল ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় ফ্রান্সের। অন্যদিকে স্পেন নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।
উল্লেখ্য, বড় ফুটবল ম্যাচের পর ফ্রান্সে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের মে মাসে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর দেশজুড়ে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ৭৮০ জনকে গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস ও আনাদোলু
কিউএনবি/অনিমা/১৫ জুলাই ২০২৬,/রাত ১১:৫৩