রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

কোন পথে যাচ্ছে যুদ্ধ?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ Time View

ডেস্কনিউজঃ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এর জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পাশাপাশি অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাষায় ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানি পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন রুটকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সকালে ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।এর আগে রাতভর টানা ৭ ঘণ্টার আরেকটি অভিযানও পরিচালনা করা হয়।

বুধবার সকালের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা আরো দুর্বল করা হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। প্রায় ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

নতুন হুমকি

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরে না এলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।

তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাকে আপাতত শেষের জন্য রাখছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেসব লক্ষ্যবস্তুও আঘাত করব।একই সময় ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ‘বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির’ দিকে এগোতে চান।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলায় ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির নিন্দা জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ।’

বাড়ছে উত্তেজনা

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর।

এর ফলে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অংশ হিসেবে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন বিরোধের কারণে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

অবরোধ পুনর্বহালের পর আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, পৃথক অভিযানে জর্দান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব মিত্র দেশ জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।

ফলে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

কিউএনবি/বিপুল/১৫.০৭.২০২৬/রাত ১০.২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit