আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের গুজরাটের জুনাগড় জেলায় অম্বাজী মন্দিরে পুণ্যতোয়া তীর্থযাত্রার সূচনাতেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনা। পরিবারের সঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মাত্র ৫০ ধাপের মাথায় অন্ধকার থেকে আচমকা এক সিংহ এসে ১২ বছর বয়সী মায়ূর চৌহান নামের এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় গহিন অরণ্যে।
এই ভয়ংকর ঘটনার পর পুণ্যার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বন বিভাগ অবিলম্বে রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত ও পবিত্র এই তীর্থযাত্রার প্রধান পথটি বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে বনের ভেতর থেকে ওই শিশুর জুতা, জামাকাপড় এবং দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গিরনারের বিখ্যাত অম্বাজী মন্দিরের মূল সিঁড়িপথে তীর্থযাত্রীর ওপর সিংহের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। নিহত শিশু মায়ূর চৌহান খেড়া জেলার মোদজ গ্রাম থেকে পরিবারের সঙ্গে এই তীর্থযাত্রায় এসেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ভোর পৌনে ৬টা নাগাদ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দলের সঙ্গে তারা পাহাড়ের মূল প্রবেশপথ থেকে সিঁড়ি ভাঙা শুরু করে। পথটিতে তখন পর্যাপ্ত আলো ছিল না এবং চারপাশটা বেশ অন্ধকার ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকার ভেদ করে একটি সিংহ পেছন থেকে এসে মায়ূরের হাত কামড়ে ধরে এবং মুহূর্তের মধ্যে চোখের আড়ালে গভীর জঙ্গলে উধাও হয়ে যায়। স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত বাকি পুণ্যার্থীরা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর বা তাকে বাঁচানোর সুযোগটুকুও পাননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং মূল সিঁড়িপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়ে তীর্থযাত্রীদের জটাশঙ্করের কাছে অবস্থিত পুরোনো বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াতের নির্দেশ দেন।
এদিকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন বিভাগ হামলাকারী সিংহটিকে খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হয়েছে বলে জুনাগড়ের উপ-বন সংরক্ষক অক্ষয় যোশী নিশ্চিত করেছেন। ট্র্যাকার, পশুচিকিৎসক এবং বিশাল কর্মী দল নিয়ে চালানো এক বিশেষ তল্লাশি অভিযানে সিংহটিকে ধরা হয়। পশুচিকিৎসকের পরীক্ষার সময় খাঁচাবন্দি সিংহটি বমি করলে তার পেট থেকে মানুষের শরীরের কিছু অংশ পাওয়া যায়, যা শিশু মায়ূরের ওপর হামলার অকাট্য প্রমাণ বহন করে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত তিন দিন ধরেই সিংহটিকে মূল সিঁড়ির আশেপাশে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল, যদিও বন বিভাগের দাবি ছিল সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
গুজরাটের বন ও পরিবেশমন্ত্রী অর্জুন মোধওয়াদিয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সাধারণত কোনো উসকানি বা কারণ ছাড়া সিংহ মানুষের ওপর এভাবে চড়াও হয় না, তাই ঠিক কী কারণে এই হামলা হলো তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গুজরাটে এশীয় সিংহের সঙ্গে মানুষের সংঘাত ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে কোনো শিশুকে সিংহ টেনে নিয়ে গেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী সোমবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে বন-সংলগ্ন পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্রের বর্তমান নিরাপত্তা বিধিমালা (এসওপি) সংশোধন করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কিউএনবি/অনিমা/১২ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:৫৪