আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আজ শনিবার (২০ জুন) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, যদি অপর পক্ষও একই ধরনের আন্তরিকতা দেখায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল করতে ইসরাইলকে চুক্তির শর্ত মানতে হবে।
গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ইসরাইল শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ পাঠ দেখতে চাইলেও ওয়াশিংটন তা প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে নতুন করে আরও অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)। এর ফলে গত দুইদিনের নিহতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে।
খাতিবজাদেহর অভিযোগ, ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যদি লেবাননসহ অন্য ফ্রন্টে চলতে থাকে, তাহলে কূটনৈতিক অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতার ভিত্তিতে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে গেছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সুইজারল্যান্ডে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্যে একদিকে কূটনীতির প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের ওপর চাপও রয়েছে যাতে তারা তাদের মিত্র ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করে। ফলে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান
কিউএনবি/আয়শা/২০ জুন ২০২৬,/বিকাল ৪:০০