মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

ফুটবলাররা যা করতে পারবেন, যা করতে পারবেন না

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের তুমুল লড়াই নয়, এর পেছনে জড়িয়ে থাকে হাজারো নিয়মকানুনের কড়া বেড়াজাল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে মাঠ এবং মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফিফা, আইএফএবি এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াদা) যৌথভাবে একগুচ্ছ কঠোর নিয়ম জারি করেছে। ফুটবলাররা ঠিক কী করতে পারবেন আর কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের নির্দেশনা।

মাঠে গোল করার পর আবেগের বশে জার্সি খোলা ফুটবলারদের চিরচেনা এক দৃশ্য হলেও এবার তা করলেই রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করবেন না। একইভাবে গোলের পর সময় নষ্ট করা বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দেওয়ার মতো অতি উদ্‌যাপন দেখলে ফিফা কড়া শাস্তি দেবে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে আংটি, গলার চেইন কিংবা ব্রেসলেটের মতো যেকোনো গয়নাগাটি পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দলীয় চিকিৎসক ও রেফারির আগাম অনুমোদন নিয়ে ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যাবে। পোশাকের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় নিষেধাজ্ঞা হলো, ভেতরের গেঞ্জি বা অন্য কোনো পোশাকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কোনো গোপন বার্তা প্রদর্শন করা যাবে না।

ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সঙ্গে সাধারণ আলাপচারিতা অপরাধ না হলেও, সেখানে আক্রমণাত্মক মনোভাব, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ থাকলে নিশ্চিতভাবেই হলুদ বা লাল কার্ড দেখতে হবে। একইভাবে ফাউলের শিকার হওয়ার ভান করা বা মাঠে অযথা ডাইভ দিয়ে রেফারিকে ঠকাতে গেলে উল্টো হলুদ কার্ডের শাস্তি পেতে হবে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচটিতে বাধ্যতামূলকভাবে দর্শকের সারিতে বসে থাকতে হবে। আর লাল কার্ড দেখার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ তো রয়েছেই, এর পরও যদি কেউ মাঠ ছাড়তে গড়িমসি করেন, তবে তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ম্যাচ চলাকালীন মাথায় চোট পেয়ে কেউ অচেতন হয়ে পড়লে রেফারি ও চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে; তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ওই খেলোয়াড় আর মাঠে ফিরতে পারবেন না।

মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় কড়াকড়ি থাকছে ডোপ টেস্ট নিয়ে। বিশ্বকাপজুড়ে যেকোনো খেলোয়াড়কে ম্যাচ শেষে, অনুশীলনে, এমনকি টিম হোটেলেও আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে নেওয়া হতে পারে এবং এই পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানালে বা নমুনায় কারচুপি করলে ক্যারিয়ারে বড় নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবলাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারলেও সেখানে কোনো ধরনের আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া এবং ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূর্ব অনুমতি ছাড়া অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।

বাণিজ্যিক দিক থেকেও কড়া নজরদারি রাখছে ফিফা। অফিশিয়াল অনুষ্ঠান বা ইন্টারভিউতে কোনো অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানো যাবে না। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় লাগাম টেনে বলা হয়েছে, ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম অনুমতি লাগবে। এমনকি হোটেল, অনুশীলন মাঠ কিংবা স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য দলগুলো কেবল ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে পারবে। তবে সব কঠোরতার মাঝেও ফুটবলের কিছু সুন্দর ঐতিহ্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে। যেমন ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করার পারস্পরিক সৌজন্য রীতিতে ফিফার পূর্ণ সম্মতি আছে। পাশাপাশি, বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ম্যাচ শুরুর আগে পূর্ব অনুমোদিত যেকোনো কর্মসূচিতে, যেমন হাঁটু গেড়ে বসে বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দলগুলোর সম্পূর্ণ স্বাধীনতা থাকছে।

কিউএনবি/অনিমা/০৮.০৬.২০২৬/রাত ১১:২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit