বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম

প্রতিশোধ ছাড়া বিকল্প দেখছে না ইরান, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২৫ Time View

ডেস্কনিউজঃ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি যেকোনও সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, তেহরান মনে করছে সামরিক হামলার জবাব না দিলে তা দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও আক্রমণের পথ উন্মুক্ত করবে।

তেহরানভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো আব্বাস আসলামি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে উভয় পক্ষের হামলা সীমিত মাত্রায় পরিচালিত হলেও বৃহত্তর ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, “ইরানের দৃষ্টিতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও বাস্তব বিকল্প নেই। কারণ কোনও ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখালে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল সেটিকে ইরানের দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করবে। একই সঙ্গে তারা এটিকে ভবিষ্যতে আরও হামলা চালানোর জন্য এক ধরনের সবুজ সংকেত হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সামনে এখন একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার প্রশ্ন, অন্যদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি- দুই ধরনের চাপই কাজ করছে। ফলে তেহরানের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আব্বাস আসলামি আরও বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে তার মতে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে আরও বেশি ছাড় আদায়ের উদ্দেশ্যে চাপ সৃষ্টির কৌশল অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করতে এই চাপ প্রয়োগ করছে বলে অনেকেই মনে করেন।”

এদিকে ইরানের সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ দ্রুত কোনও শান্তিচুক্তি বা সমঝোতা হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নন। দেশটির অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা যাচ্ছে।

আসলামির ভাষ্য, “এখানে খুব বেশি আশাবাদ নেই। অনেকেই মনে করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যে বক্তব্যগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, এসব বক্তব্যের লক্ষ্য বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। আবার অনেকে মনে করেন, এগুলো কেবল উত্তেজনা ও হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার রাজনৈতিক কৌশল।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও সমানভাবে বিদ্যমান বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: আল-জাজিরা

বিপুল/০৩.০৬.২০২৬/রাত ৯.৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit