ডেস্ক নিউজ : সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ‘প্রতি মঙ্গলবার বসতেন কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্যরা। এখানে ওনারা ইনফরমাল আলোচনা করতেন। তবে কারা করবেন সেটা নির্ধারিত ছিল। সব দেশের সরকারের মধ্যে এ ধরনের ইনার গ্রুপ ছিল। তবে তারা স্ট্রাকচার ফর্মে বসে পড়ছিল। যদিও কোনো গ্যাজেট হয়নি।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় ‘চরচা সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা শপথ নিয়েছিলাম সংবিধান অনুসারে কাজ করব। সে সংবিধানে বলা আছে প্রজাতন্ত্রের কাজ কিভাবে হবে। রাষ্ট্রপতি বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাকে কোথায় বদলি করা হবে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো প্রধান উপদেষ্টা দেবেন। কিন্তু এমন কাউকে কাউকে নেওয়া হলো, যাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।
সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জনপ্রশাসনের দায়িত্বে ছিলাম না। প্রধান উপদেষ্টা আমাকে আগস্টের ১২ তারিখে ডেকে পাঠালেন। উনি আমাকে ওই দিন থেকে কাজ শুরু করতে বলেন। উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন কয়েক দিন পরে হবে, তখন উপদেষ্টা করে নেওয়া হবে। এবারের সরকার পরিবর্তনটা একটা বিশেষ প্রেক্ষিত আছে। এটা আপনারা জানেন। আমরা যখন সমালোচনা করি, তখন কিন্তু বিবেচনায় নেই না। এবারে কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। পুলিশ কাজ ছেড়ে চলে এসেছিল। অনেক পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক হতাহত হয়। অনেক সচিব পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। কেউ বিদেশে চলে গেছেন। কেউ দেশের ভেতরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রধান উপদেষ্টার অধীনে যে মন্ত্রণালয়গুলো, তার কাজ নিষ্পত্তিতে তাকে সহযোগিতা করতাম। ওই অফিসে আমার অবস্থান ছিল ৮৯ দিন। যদিও শুরুতে উনি বলেছিলেন, আমাকে একটা মন্ত্রণালয় দেবেন। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা হলে ফসলের ক্ষতি হয়।’
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং পরিচালনা খুবই চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। রাজনৈতিক সরকার রাজনৈতিক দলের যিনি প্রধান থাকেন তিনি সরকারপ্রধান হন। তিনি এক ঘরানার লোক দিয়ে সরকার গঠন করেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারে বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে লোকজন পিকাপ করা হয়। এটা কঠিন ব্যাপার ও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জিং।