তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল তাদের আইফোন সিরিজের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাজারে একেবারে নতুন ডিজাইনের ‘আইফোন ২০’ নিয়ে আসার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি হতে পারে আইফোন এক্স-এর পর অ্যাপলের স্মার্টফোন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক ডিজাইন পরিবর্তন।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সূত্রে এমন একাধিক তথ্য সামনে এসেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি আগামী দিনে বিশ্ব স্মার্টফোন জগতে সম্পূর্ণ নতুন এক ট্রেন্ড বা ধারা তৈরি করতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্কে প্রকাশিত গ্যাজেট ৩৬০-এর বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে এই চমকপ্রদ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণ এবং লিক হওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল আগামী ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে, সম্ভবত প্রতি বছরের মতো সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই বহু প্রতীক্ষিত আইফোন ২০ উন্মোচন করতে পারে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জোরালো দাবি করা হয়েছে, ২০তম বর্ষপূর্তিকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে মার্কিন এই সংস্থাটি আইফোন ১৯ নামটি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি আইফোন ২০ নাম ব্যবহার করতে পারে। অতীতেও ২০১৭ সালে আইফোনের ১০ বছর পূর্তিতে আইফোন ৯ সংস্করণটি বাদ দিয়ে সরাসরি ‘আইফোন এক্স’ বাজারে আনার নজির রয়েছে অ্যাপলের।
ফাঁস হওয়া বিভিন্ন গোপন নকশা ও তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ২০-এর প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর চারদিক বাঁকানো বা ‘কোয়াড-কার্ভড ওএলইডি’ ডিসপ্লে। এর ফলে ফোনটির সামনে থেকে দেখলে কোনো ধরনের বেজেল বা ফ্রেম ছাড়াই প্রায় শতভাগ অল-স্ক্রিন স্ক্রিন ব্যবহারের এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।
এমনকি এই উন্নত ডিসপ্লের ওপর বর্তমানে থাকা কোনো ধরনের প্রথাগত নচ কিংবা ডাইনামিক আইল্যান্ডও আর দেখা যাবে না। নতুন এই মডেলে ফেস আইডি সেন্সর এবং সামনের সেলফি ক্যামেরা ডিসপ্লের নিচে সম্পূর্ণ অদৃশ্যভাবে লুকিয়ে দেওয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা করছে অ্যাপল, যা ফোনের সামগ্রিক ডিজাইনকে আরও নিখুঁত, পরিষ্কার ও আধুনিক রূপ দেবে।
ভেতরের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে জানা গেছে, আইফোন ২০-এ ব্যবহার করা হতে পারে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এ২১ বায়োনিক’ প্রসেসর চিপ। উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় এআই ফিচার, দ্রুততর প্রসেসিং পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারির কম বিদ্যুৎ খরচ নিশ্চিত করতে এই অত্যাধুনিক চিপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাশাপাশি ফোনের ক্যামেরা ডিজাইনেও বহু বছর পর একটি অনুভূমিক বা হরাইজন্টাল ক্যামেরা মডিউল দেখা যেতে পারে, যা ফোনের পিছনের অংশের প্রচলিত লুককে বদলে দেবে। একই সঙ্গে চীনের বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের মতো অ্যাপলও এবার কম জায়গায় বেশি ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি’ প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, যার ক্ষমতা প্রায় ৬,০০০ এমএএইচ-এর কাছাকাছি হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড জগতে কার্ভড ডিসপ্লে অনেক আগে থেকে প্রচলিত হলেও অ্যাপল যদি সত্যিই তাদের চারদিক বাঁকানো ডিসপ্লে নিয়ে আসে, তবে বিশ্বের অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতারাও নতুন করে এই কোয়াড-কার্ভড প্রযুক্তির দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে আইফোন এক্স বাজারে আসার পর যেমন বিশ্বজুড়ে নচ ডিজাইন তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, ঠিক তেমনই আইফোন ২০ বাজারে এলে এটিও নতুন একটি গ্লোবাল ডিজাইন ট্রেন্ড তৈরি করবে।
আইফোন ২০ এখনো অফিশিয়ালি ঘোষণা না হলেও এর সম্ভাব্য ফিচার ও ডিজাইন নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এরই মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে, যা গুঞ্জন সত্যি হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করবে।
সূত্র: গ্যাজেট ৩৬০
কিউএনবি/আয়শা/৩১ মে ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫৮