শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম

তামাকের প্রলোভন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৫১ Time View

ডেস্কনিউজঃ তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তী সময়ে এই আইনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি আরো বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফরম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ।

করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধি-বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।

জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

কিউএনবি/বিপুল/৩১.০৫.২০২৬/দুপুর ১২.৩২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit