আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের জয়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কাতারে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনো কাজ এগোচ্ছে।
রুবিও বলেন, “আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই, এখান থেকে কোনো অগ্রগতি সম্ভব কি না। প্রাথমিক নথির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কার্যকর সমঝোতা চান। তিনি হয় ভালো সমঝোতা করবেন, নয়তো কোনো সমঝোতাই হবে না।”
ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সোমবার ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার কাজে ব্যবহৃত দ্রুতগতির নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাতারের দোহায় নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা পৌঁছানোর পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ফলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক উত্তেজনা দুই পরিস্থিতিই এখন পাশাপাশি চলছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, “এই নৌপথ অবশ্যই খোলা থাকতে হবে। যেকোনো উপায়ে এটি সচল রাখা হবে। সেখানে যা ঘটছে, তা অবৈধ এবং বিশ্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
সূত্র : দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস
কিউএনবি/অনিমা/২৬.০৫.২০২৬/দুপুর ১২:০৪