ডেস্ক নিউজ : দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এরমধ্যে পুরুষ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ব্যবহারকারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস অডিটরিয়ামে এই জরিপ প্রকাশ করা হয়।
পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে অঞ্চলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি হলেও পঞ্চগড়ে তা সর্বনিম্ন। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের সেবা গ্রহণ করেছেন।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের মধ্যে মৌলিক কাজের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কপি-পেস্ট করার দক্ষতা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছে, যা সবচেয়ে সাধারণ ডিজিটাল কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে এর বাইরে উন্নত দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকিও কম নয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে, ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্যও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সামনে এসেছে। জরিপে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, উচ্চ খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল সেবা সবার নাগালে আনতে হলে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও জোর দিতে হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০০