বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বন্যার পানি নামতেই সামনে এলো ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালু জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কোন পথে যাচ্ছে যুদ্ধ? ২৬ কার্যদিবস শেষে সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন সমাপ্ত সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ ডলার-স্বর্ণ দ্বৈরথে এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কি বিপদে? মধ্যপ্রাচ্যে ২০ যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ’ সামরিক বিমান মোতায়েন আমেরিকার সিলেটের এমসি কলেজের যে ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, বিচারে ১ জনের মৃতুদন্ড নোয়াখালীর উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রূপরেখা নির্ধারণে গোলটেবিল বৈঠক

কেন পাকিস্তানের ওপরই ভরসা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভ‚মিকা পালন করেছে পাকিস্তান। যুদ্ধবিরতি আলোচনা পরিচালনার জন্য শুরু থেকেই দেশটির ওপর আস্থা রাখে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান।

তবে কেন পাকিস্তানেই ভরসা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, এ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইসলামাদের নিরপেক্ষ অবস্থান, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও উন্নত সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ক্ষমতাই এর পেছনের মূল কারণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এনডিটিভি। 

যে কোনো সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হতে হলে দুই পক্ষেরই আস্থা থাকা জরুরি। আরবের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সম্পর্কের কারণে তাদের প্রতি আর বিশ্বাস নেই ইরানের। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় কিছু দেশে হামলাও চালিয়েছে ইরান। 

অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে। এমকি দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। যা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির একটি পোস্টে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘আমার প্রিয় ভাই’ সম্বোধন করে ‘অক্লান্ত পরিশ্রমের’ জন্য তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। 

এছাড়া ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, যা ইরানের আস্থার একটি বড় কারণ। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও গত এক বছরে বেশ উন্নতি হয়েছে। ইসলামাবাদ ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছে। যা গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে আসিম মুনিরকে তার ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসাবে অভিহিত করেছেন। 

মুনিরের সঙ্গে মার্কিন ও ইরানি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের গভীর যোগাযোগ থাকায় এই আলোচনায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের এই আগ্রহ কেবল ভূরাজনৈতিক নয়, বরং নিরাপত্তার বিষয়ও। দেশটি তার অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে পায়। তাছাড়া বহু পাকিস্তানি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) পাঠান। যুদ্ধের ফলে এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। যা শাহবাজ সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছিল। 

এ ছাড়া পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে বিরোধ তো আছেই। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এমনিতেই উত্তপ্ত। এর মধ্যে অন্য প্রতিবেশী ইরানের অস্থিরতা পাকিস্তানের জন্য মোটেও সুখকর নয়। দেশের ভেতরেও স্থিতিশীলতার সংকট ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় এবং বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। 

যদিও এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নড়বড়ে। যদি আগামী শুক্রবারের আলোচনা ব্যর্থ হয় তাহলে পাকিস্তানের ক‚টনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উভয় পক্ষই ইসলামাবাদকে দায়ী করতে পারে ও নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তান কঠিন ভারসাম্য সংকটে পড়বে। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের এই ক‚টনৈতিক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এখনই এটিকে স্থায়ী সাফল্য বলা যাচ্ছে না।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৮ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১০:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit