আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের শীর্ষ দুই নেতা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে তেহরানের রাজপথে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা গেছে। মঙ্গলবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক র্যালিতে তারা অংশ নেন তারা।
কোনো দৃশ্যমান নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই তাদের ভিড়ের মধ্যে ঘুরতে এবং সাধারণ মানুষের সাথে সেলফি তুলতে দেখা গেছে।
এর আগে কুদস দিবসে তারা যখন শেষবার জনসম্মুখে এসেছিলেন, তখন তাদের সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি, যিনি পরবর্তীতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। বর্তমানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে গুপ্তহত্যার হুমকি অব্যাহত থাকার মধ্যেই তাদের এই উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধানের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন হবে না এমন নিশ্চয়তা দাবি করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যে পালটা প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানেও ইসরায়েল ও আমেরিকা যাতে নতুন করে অস্ত্র তুলে না নেয়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট মেকানিজমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর সতর্কবার্তা দিয়েছে, যদি আর কোনো ইরানি নেতাকে লক্ষ্য করে গুপ্তহত্যা চালানো হয়, তবে বুধবার থেকে গুগল ও অ্যাপলের মতো বড় মার্কিন টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধে তারা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে সরাসরি বার্তা পাচ্ছেন। তবে তিনি এটিকে প্রথাগত ‘আলোচনা’ বলতে নারাজ। আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার ওপর ইরানের আস্থার হার এখন শূন্যের কোঠায়, তাই আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান আসবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না।
সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যেকোনো স্থল যুদ্ধ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যুক্তরাষ্ট্র যেন এমন ভুল না করে। যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান কোনো সাধারণ যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না বরং তাদের দেওয়া শর্তগুলো বাস্তবায়নই হবে সমাধানের একমাত্র পথ।
কিউএনবি/অনিমা/০১ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ৮:০৯