শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি নড়বড়ে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

ডেস্কনিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, যারা জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। এতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান, মিসর ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো একসঙ্গে দুটি সমস্যায় পড়েছে—একদিকে আমদানি নির্ভরতা, অন্যদিকে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়ার সীমিত সক্ষমতা।

পাকিস্তান, যা প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে, সেখানে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্কুল বন্ধ, সরকারি অফিসে চারদিনের কর্মসপ্তাহ, আংশিক ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং জ্বালানি ভাতা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঈদের আগে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাড়তি খরচ সরকার বহন করবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশে, যেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল আমদানি করা হয়, কিছু এলাকায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যদিও রেশনিং পদ্ধতি চালু করে আবার তা বন্ধ করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরও কঠিন। ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা দেশটি এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে এবং যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক ফুয়েল পাশ চালু করেছে।

মিসরে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর একটি, সরকার দোকানপাট ও শপিংমল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দেশের সামনে এখন মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং বাজেট ঘাটতির মতো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অনেক দেশের মুদ্রা মার্কিন ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়ায় আমদানি খরচ আরও বেড়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপও বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশে মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য ও জ্বালানিতে ব্যয় করে, ফলে দাম বাড়লে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সরকারগুলোর পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পরিবহণ খরচ বাড়ার প্রভাব শিগগিরই খাদ্যের দামেও পড়বে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানে গম উৎপাদন ও পরিবহনে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা বেশি। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে আটা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে।

সার্বিকভাবে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করলেও এর সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই।

সূত্র: আলজাজিরা

কিউএনবি/বিপুল/২৫/০৩/২০২৬/দুপুর ২.৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit