মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মেক্সিকো ঢেউয়ের সামনে ইকুয়েডর শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করল স্বামী ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলমান, মৃত্যু বেড়ে ১৭১৯ রুশ ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কাঁপল ইউক্রেন, নিহত ১০ হরমুজ প্রণালিতে মাইন সরাতে ইরান একাই যথেষ্ট ট্রাম্পের কথার কড়া জবাব মেলোনির ‘আমি মাথা নত করার মতো মানুষ নই’ কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল উড়োজাহাজে এ সপ্তাহে প্রথম ভ্রমণ করবেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পালন করলে ইরানও করবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান জার্মানির প্যারাগুয়ে পরীক্ষা শুরু যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, ঘরে ফিরছেন বাস্তুচ্যুতরা

ফুলবাড়ীতে সরকারি অফিস টাইম মানছেন না বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৯ Time View

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : সরকার ঘোষিত সময়সূচী মানছেন না দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেশিরভাগ সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রমজান উপলক্ষে সরকার অফিস সময় বেধে দিয়েছেন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এছাড়া সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০মিনিট পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিষয়টি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই সময়সূচী পালন না করলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। সরকারের এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশি মত অফিস করছেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা।

রোববার (৮মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দপ্তরে তালা ঝুলছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কোন কোন অফিসে কর্মচারিরা এসে তালা খুলছেন। দু’একটি দপ্তর ছাড়া কোন দপ্তরে দপ্তর প্রধানদেরকে ওই সময়ে পাওয়া যায়নি।সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০মিনিট পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বেশির ভাগ কর্মচারি জানান কর্মকর্তারা বাইরে বা মাঠে আছেন। বাস্তবতা হলো তারা অফিসে আসেননি। রোববার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান এর কক্ষে তালা ঝুলছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলামের দপ্তরে গিয়ে দরজায় তালা ঝুলানো দেখা যায়। এসময় অফিসের একজন কর্মচারী জানান, স্যার কাজের সাইটে গেছেন। সাইট দেখে তারপর অফিসে আসেন। উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন নার্গিসের কক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার পরও তালা ঝুলতে দেখা যায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদের কক্ষে তালা ঝুলানো ছিলো।

এদিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ ও ভ্যাটেনারী হাসপাতালে গিয়ে দেখা মেলে সকাল ৯টার দিকে একজন অফিস কর্মচারী কেচি গেটের তালা খুলছেন। ততখনে কোন ডাক্তার হাসপালে উপস্থিত হয়নি। ডাক্তার কখন আসেন জানতে চাইলে তিনি বলেন সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আসেন। এরইমাঝে হাসপাতালের সামনে মশিউর রহমান নামে একজন ব্যাক্তী ভ্যানে করে ছাগল নিয়ে দাড়িয়ে আছেন, ছাগলটি ছটফট করছে। এসময় কথা হয় তার সাথে। ততখনে ঘড়ির কাটায় সাড়ে ৯টা। তিনি বলেন, খুব সকাল থেকে দাড়ীয়ে আছি এখন সাড়ে ৯টা বাজে তবুও ডাক্তার আসেনাই। সময়মত চিকিৎসা না পেলে ছাগলটা যদি মরে যায়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.সারোয়ার আলমকে তার সরকারী নাম্বারে একাধীকবার কল করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে অফিসে গিয়ে কথা বললে তিনি জানান, সরকারী নাম্বার বন্ধ আছে। সরকার তো মোবাইল খরচ দেয়না তাই বন্ধ রাখছি। অফিসে দেরি করে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সঠিক সময়ে আসি তবে আজ হয়তো একটু দেরি হয়েছে। কাল থেকে আর দেরি হবে না। নিউজ করার দরকার নেই। উপজেলা সহকারী ভুমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি সার্টিফিকেট সহকারী লায়লা বেগম ও নিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী মনোজ কুমার শীল, প্রধান সহকারী রিয়াজুল ইসলামকে। পৌর ভূমি অফিসে অনুপস্থিত ছিল তোহশীলদার হামিদুর রহমান।উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের অবস্থা একেবারে নাজুক। সেখানে কোন কর্মকর্তা নেই। নেই কোন নামপ্লেট। জরাজীর্ণ অফিসের তালাও খোলা হয়নি। জনসাধারণ কতটুকু সেবা পায় তা অফিসের অবস্থা দেখে বিস্তর ধারণা পাওয়া যায়।

উপজেলা বন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এসময় দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলার এলুয়ারী ইউনিয়নের খাজাপুুর গ্রামের মো. সিরাজ উদ্দীন (৭০), আব্দুস সামাদ (৭৫), গনিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৬৫) এসেছেন বন কর্মকর্তার কাছে। কিন্তু অফিস বন্ধ থাকায় আধাঘন্টা থেকে দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানান তারা। এদিকে উপজেলা আইসিটি অফিসার মোছা. তাসলিমা খাতুনের কক্ষ খোলা থাকলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলার পুরনো দ্বিতল ভবনে মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. রাশেদা আক্তারের অফিস খোলা থাকলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি আসেননি বলে জানান একজন কর্মচারি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীতা মন্ডলকে তার অফিসে পাওয়া যায়নি। তবে নারী দিবসের প্রোগ্রাম থাকায় তিনি কেনাকাটা করতে গেছেন বলে জানান তার কর্মচারি। পরে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কখন অফিসে আসবো, সে কৈফিয়ত কি আপনাকে দিতে হবে? আমি ৯ বছর ধরে এখানে কর্মরত আছি, পারিবোরিক কারনে কর্মস্থলে থাকতে পারিনা। তাই দিনাজপুর থেকে অফিস করতে হয়। আপনার যা খুশি নিউজ করেন।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মো. লুৎফর রহমানের অফিস খোলা থাকলেও ৯টা ৪০ মিনিটেও অফিসে আসেননি তিনি । উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মোহসীন আলীর কক্ষ খোলা থাকলেও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. সাহারা বানুর অফিস খোলা থাকলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মোখলেছুর রহমানকে তার দপ্তরে পাওয়া যায়নি।

বিএমডিএ ফুলবাড়ী জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের অফিস কক্ষ খোলা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অফিসের কর্মচারি জানান, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় সপ্তাহে দুদিন অফিস করেন তিনি।উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার রেজাউল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় দুপুরের পর অফিসে আসবেন বলে জানান তার কর্মচারি। উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার জেলায় যোগদান করেছেন। দুএকদিনের মধ্যে তিনি এই দপ্তরে যোগদান করবেন বলে জানান নির্বাচন অফিসের লোকজন।

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামকে যথা সময়ে অফিসে দেখা গেছে। ফুলবাড়ী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম আনসারী বলেন, অফিস সময়সূচী নির্ধারিত থাকলেও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং বিলম্বে অফিসে আসা না আসা এ বিষয়টি দীর্ঘ জীবনে ব্যক্তির দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়ে আসছে। এর ফলে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এক ধরনের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা ব্যক্তিগত স্বার্থ সুবিধার আলোকে সরকারি দায়িত্বের প্রতি অমনোযোগী আচরণ সকল সেক্টরে কাজের গতি ও কর্মপরিবেশ সবই যেন তালগোল অবস্থায় জোড়া তালির মাঝে চলছে। জবাবদিহিতার জায়গা থাকলেও একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।এবিষয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামী আইনশৃঙ্খলা সভায় সঠিক সময়ে অফিসে কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে জোরালো ভাবে বলা হবে। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।

কিউএনবি/অনিমা/০৮ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৫:১৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit