মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সাধারণ কৃষকরা প্রায় প্রতি বছরই চাহিদার তুলনায় পর্যন্ত মজুত না থাকার অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে সার ডিলারদের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়ে। বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে কৃষকদের সবচেয়ে বেশি সার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে। বিশেষ করে ডিএপি সার পর্যাপ্ত পরিমাণে না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক। সময়মতো সার না পাওয়ায় অনেকেই জমিতে সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারছেন না, ফলে সম্ভাব্য ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
শিবনগর ইউপির কৃষক সাইফুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে দোকানে ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারছিনা। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার ক্রয় করতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার না পেলে ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ফুলবাড়ীতে বিসিআইসি’র সারের ডিলার রয়েছে ১০ জন। মেসার্স সুদর্শন পালিত, মেসার্স অচিন পালিত, মেসাস চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ, মেসাস ইসলাম ট্রেডার্স, মেসাস শহিল ইসলাম এন্ড ব্রাদার্স, মেসাস লুৎফর ট্রেডার্স, মেসাস সোনার বাংলা ট্রেডার্স, মেসাস সমীর কুমার মল্লিক, মেসাস পরিতোষ কুমার মল্লিক ও মেসাস এমআর ট্রেডার্স। প্রত্যেক ডিলার সরকারি বরাদকৃত সার বিক্রি করেন। সার ডিলাররা বলছেন আমদানিকৃত সার সঠিক সময়ে না আসায় কৃষক সার সংকটে পড়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার সার ডিলার চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্তাধীকারী মোঃ আব্দুল হামিদ চৌধুরী সাংবাদিকে জানান, উপর থেকে সারের সরবরাহ কম থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী সার দিতে পারছেন না। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্ল্যাহ বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সার সরবরাহের ব্যবস্থা করছে এবং কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে সার ব্যবসায়ী মেসার্স এমআর ট্রেডার্সকে অনিয়মের কারণে ভ্রমাম্যান আদালতে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত সার সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৫:৪৪