শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

কোরআন সুন্নাহর আলোকে মাহে রমজান

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুছ

রমজানের ফজিলত 

এ মাস অনেক ফজিলতপূর্ণ। এ মাসে বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের অফুরন্ত ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়। হাদিস শরিফে এসেছে এই মাসে ১. জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়(বুখারি ৩২৭৭)  ২. অভিশপ্ত শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। (বুখারি ৩২৭৭) ৩.২৪ ঘন্টাই মুমিনের দোয়া কবুল করা হয়। (তারগিব-১৪৯৩) ৪.আমলের মূল্য ৭০ গুন বৃদ্ধি করা হয়। (মেশকাত ১৯৬৫)

 রোজা ও তারাবিহ

আল্লাহ তাআলা এ মাসে প্রাপ্ত বয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক বান্দা বান্দির উপর দিনে রোজাকে ফরজ এবং নবীজি রাতে তারাবিহকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা সাব্যস্ত করেছেন। রোজা ও তারাবির বহু ফজিলত রয়েছে। যেমন বর্ণিত হয়েছে,
 
১. রোজা রাখা ও তারাবীহ পড়ার দ্বারা জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (মুসনাদে আহমদ-৬৬২৬) ২. রোজা ও কোরআন আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে এবং তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমন-৬৬২৬) ৩.রোজা এবং তারাবিতে শারীরিক বহু উপকার রয়েছে। রোজার দ্বারা হৃদরোগ, পেপটিক আলসার, আলসার,কিডনি ও লিভারের সমস্যার নিরাময় এবং অটোফেজি হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও আছে বহু ফজিলত। তাই আসুন! সঠিক ভাবে পূর্ণ মাস রোজা রাখি এবং ধীরে সুস্থ্যে তারতিলের সাথে ২০ রাকাত খতমে তারাবিহ আদায় করি।
 
রমজানে করণীয় কাজসমূহ

রমজান হচ্ছে খায়র ও বরকতের বসন্তকাল। একজন ফেরেস্তা রাতে ঘোষনা করে,হে কল্যানকামী। তুমি অগ্রসর হও আর হে পাপাচারী। তুমি থেমে যাও। (তিরমিজি-৬৮২) তাই আসুন। কাজ-কর্ম কমিয়ে ইবাদত বেশী করি। ১.জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও এস্তেগফার বেশি করি।২.নফল নামাজ দান সাদকাহ বেশী করি।৩.কর্মচারী ও কাজের লোকদের কাজের বোঝা হালকা করি।৪. তাহাজ্জুদ, সাহরি ও ইফতারির সময় মন দিয়ে দোয়া করি।
 
রমজানে বর্জনীয় কাজসমূহ

মন্দ কাজ সর্বদাই মন্দ। আর রমজানে একটু বেশীই মন্দ। তাই আসুন! সকল মন্দ পরিহার করি, বিশেষত ১. মিথ্যা, অনর্থক, অশ্লীল কথা ও কাজ। ২.গিবত, শেকায়েত, ঝগড়া বিবাদ, জুলুম ও নির্যাতন। ৩. গান বাদ্য, অশ্লীল ছবি ও অবৈধ সম্পর্ক। ৪.প্রকাশ্যে বা পর্দা লাগিয়ে পানাহার এবং বেপর্দা ঘুরাফেরা। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং মন্দ আমল বর্জন করেনি তার উপবাস থাকা (রোজা রাখা) আল্লাহর কোন প্রয়োজন নাই। (বুখারি ১৯০৩)
 
শবে কদর ও ইতেকাফ

রমজানে পূর্ণ সফলতা লাভের জন্য শেষ দশকের বেজোড় রাত সমূহের কোন এক রাত্রকে আল্লাহ তাআলা শবে কদর হিসাবে ঘোষনা করেছেন। যাতে ইবাদত করা হাজার মাস ইবাদত করা থেকে উত্তম। আর রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা আলাল কেফায়া। যিনি এতেকাফ করবেন তিনি ইনশাআল্লাহ শবে কদরের মর্যাদা ও বহু সওয়াব লাভ করবেন।
 
সদকাতুল ফিতর ও ঈদ

ঈদের খুশিতে গরীবগণও যেন শামিল হতে পারে তাই প্রত্যেক উপযুক্ত ব্যক্তির উপর নিজের এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। খেজুর, কিসমিস, পনির ও জব দ্বারা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম বা তার সমমূল্য। আর গম বা গমের আটা দ্বারা ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম বা তার সমমূল্য গরিব, মিসকিনকে প্রদান করতে হবে। অন্যথায় আমাদের রোজা আকাশে ঝুলে থাকবে। আর ঈদ উদযাপনে আমরা শরিয়ত ও সুন্নতের কথা মনে রাখবো। আল্লাহ তাআলা মাহে রমজানের সকল আমল যথাযথভাবে করার তাওফিক দান করুন এবং কবুল করুন। সবাইকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন। আমিন।

লেখক :
শিক্ষক,লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা
খতিব,আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ ঢাকা
পরিচালক,দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ

 

 

কিউএনবি/খোরশেদ/২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit