সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন, টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের বিক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর বিয়ের কার্ড, দাওয়াত পেয়েছিলেন মেসি? ‎সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই গড়বে মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম—–লালমনিরহাটে ত্রাণমন্ত্রী দুলু ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন সৌদি যুবরাজ যুদ্ধবিরতি নাকি প্রতারণার ছক— ট্রাম্প আসলে কী চান? সাবেক এমপি তুহিনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলতি মাসে দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস তিন দিনের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা, প্লাবিত হতে পারে যেসব জেলা আগুনে আর ঘি ঢালবেন না: হৃতিককে কেন বললেন কঙ্গনা

জামায়াত আমির শফিকুর রহমান গোপনেই ‘ইসলামপন্থি’ সংগঠনের দেখা পেয়েছিলেন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : সিলেটের এমসি কলেজ নামে পরিচিত মুরারিচাঁদ কলেজে পড়ার সময়ে ‘হতাশ’ হয়ে জাসদ ছাত্রলীগ ছেড়ে কলেজ হোস্টেলেই গোপন কার্যক্রমে থাকা ‘ইসলামী সংগঠনের’ সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। এর পরে কয়েক বছর ছাত্রশিবির করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সিলেটে জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৪ সালে। খবর বিবিসি বাংলার।

জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া’ নেতাদের কয়েকজনের যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসি হওয়ার পর দলটিতে তৈরি হওয়া নেতৃত্ব শূন্যতার মধ্যেই তিনি প্রথমে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও পরে দলের আমির নির্বাচিত হন।

জামায়াতের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ যারা করেন তাদের মতে, ড. শফিকুর রহমান নেতৃত্বেই জামায়াত নিজস্ব সাংগঠনিক খোলস ভেঙে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার ধাপে এসে পৌঁছেছে এবং এর অংশ হিসেবেই দলটি সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধাদের দলে ভিড়িয়ে সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নও দিয়েছে।

দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছিলেন, তিনি দলটিকে নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে আটকে না রেখে সবমহলের কাছে নিয়ে এসেছেন। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসেই এটি একটি ভিন্ন ডাইমেনশন।

জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে দলের আমির ড. শফিকুর রহমানের জীবনীতে বলা হয়েছে যে, তিনি জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন ১৯৭৩ সালে এবং এর তিন বছর পর তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। 

তবে ওই সময় যারা জাসদের রাজনীতিতে খুবই সক্রিয় ছিলেন তারা অবশ্য বলছেন, ড. শফিকুর রহমান নিজে জাসদ ছাত্রলীগ সমর্থন করে থাকতে পারেন তবে তিনি তাতে সক্রিয় ছিলেন এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ তখনকার এমসি কলেজ বা সিলেটের জাসদ ছাত্রলীগের কাছ থেকে তারা পাননি।

রাজনৈতিক জীবন ও জামায়াতে আসা 

জামায়াতে ইসলামী ও ড. শফিকুর রহমানের নিজের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। তার তিন ভাই ও এক বোন রয়েছে এবং তিনি ভাই-বোনদের মধ্যে তৃতীয়।

তিনি ১৯৭৪ সালে এসএসসি পাশ করেছিলেন কিন্তু তার আগেই ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের যোগদান করেছিলেন বলে দলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। এরপর তিনি ১৯৭৬ সালে এইচএসসি পাশের পর সিলেট মেডিকেল কলেজে (পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন।

জাসদ ছাত্রলীগের হয়ে তখন ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন ডাঃ মুশতাক হোসেন। পরবর্তীকালে ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হন। ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শফিকুর রহমান মেডিকেলের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার দুই বছরের জুনিয়র ছিল। স্বাধীনতার পরের ওই সময়ে জাসদ ছাত্রলীগের তখন জোয়ার ছিল। সেই সময় শিক্ষার্থীরা সমর্থন করতো জাসদ ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নকে। আমি সিলেটের তখনকার জাসদ ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে থেকে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত থেকে এমপি হওয়া লতিফুর রহমান জাসদ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তার জানা আছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা আছে যে, জামায়াতের বর্তমান নেতাদের মধ্যে কয়েকজনই স্বাধীনতা পরবর্তী কালে যখন জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিলো তখন ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্র ইউনিয়নের মতো বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। পরে জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে, জামায়াত যখন রাজনীতির অনুমতি পায় তখন তারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামীতে সক্রিয় হন।

জামায়াতে ইসলামী অবশ্য বলছে, ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন শফিকুর রহমান এবং তিনি দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন ১৯৮৪ সালে। এরপর তিনি সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর আমীরের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তবে এর মধ্যে ২০১০ সালের জুনে জামায়াতের তখনকার সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ গ্রেফতার হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।

এটিএম আজহারুল ইসলাম নিজেও যুদ্ধাপরাধের মামলায় আটক হওয়ার পর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান তখনকার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের নভেম্বরে তিনি জামায়াতের রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথমবারের মতো দুই বছর মেয়াদের জন্য দলটির আমির নির্বাচিত হন। পরে ২০২৩ সালে ও ২৫ সালে আবারও আমির নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

 

 

কিউএনবি/খোরশেদ/১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit