সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মাহদী আমিন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ Time View

ডেস্ক নিউজ : বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে সেই দলের নেতাদের দ্বারা ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যাবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা এবং নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দকৃত আলামত ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচন কমিশনকে জোরালো আহ্বান জানিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখমণ্ডল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ভোটগ্রহণের সময় নারী পোলিং কর্তৃপক্ষের সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি- ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা দেখলাম, রাজধানীর পুরাতন ঢাকার সূত্রাপুরে সেই দলেরই এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমনই যদি হয়, তবে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।

পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে 

মাহদী আমিন বলেন, আরেকটি গুরুতর বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগে নানাবিধ অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন।

যদিও বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষই এই সংস্থার তথাকথিত কার্যালয় এবং লোকবল বলতে একজনই, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ইতঃপূর্বে আমরা নির্বাচন কমিশনে অবহিত করেছি যে, পর্যবেক্ষকের নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা মনে করি, এসব বিষয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায়। অতএব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit