ডেস্ক নিউজ : অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে বসবাসকারী এক বিশাল আকৃতির ক্যাঙ্গারু লাফাতে পারত। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, অতিরিক্ত ওজনের কারণে প্রাচীন এই ক্যাঙ্গারু লাফ দিতে সক্ষম ছিল না। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, আধুনিক ক্যাঙ্গারুর পূর্বপুরুষ প্রোটেমনোডন গোলিয়াহ সম্ভবত ছোট ও দ্রুত লাফ দিতে পারত। এই প্রজাতিটি প্লাইস্টোসিন যুগে (প্রায় ২৫ লাখ থেকে ১১ হাজার বছর আগের সময়কাল) অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করত। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ।
এর আগে গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, ৩৫০ পাউন্ডের বেশি ওজনের ক্যাঙ্গারুদের জন্য লাফ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। লাফ দিলে তাদের গোড়ালির হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক মেগান ই. জোন্স জানান, আধুনিক ক্যাঙ্গারুর তুলনায় প্রাচীন জায়ান্ট ক্যাঙ্গারুগুলো ছিল অনেক বড়। তাই তাদের চলাফেরার ধরন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল।
জোন্স বলেন, সাধারণত যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণী লাফিয়ে চলে, তারা বেশ হালকা। এমনকি ছোট ইঁদুর বা থলি-ধারী প্রাণীর ওজনও সাধারণত সাত পাউন্ডের কম। আধুনিক ক্যাঙ্গারু সর্বোচ্চ ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজনের হলেও তারা দক্ষভাবে লাফাতে পারে। অথচ প্রোটেমনোডন গোলিয়াহের ওজন ছিল প্রায় ৫৫০ পাউন্ড, যা আধুনিক ক্যাঙ্গারুর দ্বিগুণেরও বেশি।
গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ও ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ৯৪টি আধুনিক ক্যাঙ্গারু এবং ৬৩ প্রজাতির ক্যাঙ্গারু ও ওয়ালাবির ৪০টি জীবাশ্ম পরীক্ষা করেন। তারা প্রাণীগুলোর ওজন, পায়ের চতুর্থ মেটাটারসাল হাড়ের (পায়ের পাতার লম্বা হাড়) দৈর্ঘ্য ও পুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। এতে বোঝার চেষ্টা করা হয়, লাফ দেওয়ার সময় সৃষ্ট চাপ তারা সহ্য করতে পারত কি না।
গবেষণায় দেখা গেছে, সব জায়ান্ট ক্যাঙ্গারুর মেটাটারসাল হাড় লাফের চাপ সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্ত ছিল। তাদের গোড়ালির হাড়ও বড় ছিল, যা লাফের সময় প্রয়োজনীয় টেনডনকে সমর্থন দিত।
তবে গবেষকরা বলছেন, এই বিশাল ক্যাঙ্গারুগুলো প্রতিদিন চলাফেরার জন্য সব সময় লাফের ওপর নির্ভর করত না। বড় শরীরের জন্য তা অকার্যকর হতো। বরং বিপদ এড়াতে, শিকারি থেকে বাঁচতে বা বাধা টপকাতে তারা অল্প দূরত্বে দ্রুত লাফ ব্যবহার করত। এ সময় তাদের শিকারি ছিল বিলুপ্ত মার্সুপিয়াল সিংহ থাইলাকোলিও। গবেষকদের মতে, এই তথ্য প্রাচীন প্রাণীদের চলাচল ও আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে।
কিউএনবি/অনিমা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৬:৪৭