সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন

আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর আল-কায়েদা ও তালেবান দমনের লক্ষ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। ২০ বছরব্যাপী যুদ্ধে ন্যাটোর ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের তথ্য মতে, ২০ বছরের আফগান যুদ্ধে ন্যাটোর মোট ৩ হাজার ৪৮৬ সেনা নিহত হন, যার মধ্যে মার্কিন সেনা ২ হাজার ৪৬১ জন। যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ সেনা নিহত, কানাডার ১৬৫ জন প্রাণ হারান। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ অন্যান্য দেশও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।
২০২১ সালে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পর তালেবান ফের কাবুলের ক্ষমতা দখল করে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প।
 
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প দাবি করেন, আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো সেনাসদস্য পাঠালেও তারা ফ্রন্টলাইনের বাইরে ছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপসহ মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করেছে। তবে বিনিময়ে ওয়াশিংটন বিশেষ কিছুই পায়নি।
 
গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে মতপার্থক্যের বরফ কিছুটা গলতে শুরু করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। সমালোচনার ঝড় তোলেন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও রাজনীতিকরা।
 
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে অপমানজনক এবং স্পষ্টতই ভয়াবহ বলে মনে করি এবং তার এই মন্তব্য যুদ্ধে নিহত বা আহতদের প্রিয়জনদের কষ্ট দিয়েছে।’
 
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন: ‘যদি আমি ভুল করে কথা বলে থাকি বা এই কথাগুলো বলে থাকি, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।’ এর আগে ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা।
 
লেবার এমপি এমিলি থানবেরি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য অত্যন্ত অপমানজনক। লন্ডন সবসময় ওয়াশিংটনের পাশেই ছিল বলে দাবি করেন তিনি। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, ট্রাম্প কিভাবে তাদের আত্মত্যাগের ওপর প্রশ্ন তোলেন।
 
একইভাবে কনজারভেটিভ এমপি বেন ওবিস-জেক্টি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাজ্য এবং ন্যাটো অংশীদারদের আত্মত্যাগকে ট্রাম্প এভাবে হালকাভাবে দেখছেন তা দুঃখজনক। ট্রাম্পের এমন দাবির জবাবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রক্ত দিয়েছে ন্যাটো। তার ভাষায়, প্রতি দুই মার্কিনের বিনিময়ে এক ন্যাটো সেনা নিহত হয়েছেন।

 

 

কিউএনবি/খোরশেদ/২৪ জানুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ১২:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit