মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের তিন সপ্তাহে ইরানে ছয় শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে একই সঙ্গে ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ রয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, ইরান বিষয়ে বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আরো বিক্ষোভকারী নিহত হলে হস্তক্ষেপের জন্য তার সামরিক বাহিনী ‘খুবই শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, ইরানি নেতারা তাকে ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছেন’, তবে তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’। ইরানের মুদ্রার পতন এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বৈধতাকেই সংকটে ফেলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রসংযুক্ত সংবাদ সংস্থা ফার্স দাবি করেছে, কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর সোমবার রাত ছিল ‘ঝড়ের পর শান্ত সময়’, এবং তেহরানসহ বহু শহরে ‘অস্থিরতামুক্ত রাত’ কেটেছে। তবে বিবিসি দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে- এমন দাবি করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে। চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এসব ভিডিও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা যাচাই করা কঠিন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার বলেন, এক ইরানি কর্মকর্তা ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তিনি যোগ করেন, তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থান প্রশাসন যে বার্তা গোপনে পাচ্ছে, তার সঙ্গে ‘অনেকটাই ভিন্ন’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন মনে করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সামরিক বিকল্প ব্যবহারে দ্বিধাহীন’।