আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কারাবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদকে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি খালিদকে একটি চিঠিও লিখেছেন। আর এতেই আঁতে ঘা লেগেছে ভারতের।
সম্প্রতি এই চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি জনপ্রতিনিধিদের অন্য দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকারি পদে থেকে ব্যক্তিগত সংস্কার বা পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রকাশ করা কাম্য নয়। তিনি আরও পরামর্শ দেন, অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে মমদানির উচিত নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করা।
গত মাসে উমর খালিদের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কাছে একটি হাতে লেখা চিঠি তুলে দেন মামদানি। সেই চিঠিতে তিনি উমর খালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং কারাবন্দি অবস্থায় তিক্ততাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে উমরের পুরনো বক্তব্যের প্রশংসা করেন।
এই ঘটনার পর উমর খালিদের বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস গণমাধ্যমকে জানান, নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সঙ্গে তার গত ৯ ডিসেম্বর প্রায় ২৫ মিনিট কথা হয়েছে। মূলত ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের সময় উমর খালিদের কারাজীবনের ডায়েরি পাঠ করার জন্য মামদানিকে ধন্যবাদ জানাতেই এই সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। সেখানে মামদানি উমরের জামিন হওয়া প্রয়োজন বলে নিজের মত প্রকাশ করেন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গার ঘটনায় উমর খালিদ গত পাঁচ বছর ধরে জেলবন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা ষড়যন্ত্রের মামলাটি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার অধীনে আছে। এর আগে ২০২৩ সালেও মামদানি উমর খালিদকে একজন নিরপরাধ ছাত্রনেতা ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে বর্ণনা করে তার গ্রেফতারের বিরোধিতা করেছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে মামদানির এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
কিউএনবি/অনিমা/১০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৪:৫৭