গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি বলেন, ইরানে ‘স্বৈরাচারি শাসন থেকে ভবিষ্যতের গণতন্ত্রে রূপান্তরে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য’ তিনি প্রস্তুত। আরও বলেন যে, তার লক্ষ্য ‘জাতীয় গণভোট এবং সাংবিধানিক পরিষদের মাধ্যমে’ একটি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন, এবং তিনি ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য ‘ইরানে পা রাখতে আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত’। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
তিনি বলেন, ‘আমি সারা জীবন আমার জাতির সেবা করার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই আমি ইরানে পা রাখতে আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত, এবং চূড়ান্ত যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমি আমার স্বদেশীদের পাশে থাকব।’ ইরানের ক্ষমতায় বসার ব্যাপারে মার্কিন সমর্থন পেতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পাহলভি জোর চেষ্টা করছেন।
কিন্তু ট্রাম্প পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পাহলভিকে একজন ‘ভালো মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। তবে সাক্ষাতের কথা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সঙ্গে দেখা করাটা সমীচীন হবে না।
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের উচিত সবাইকে মাঠে নামতে দেয়া ও দেখার সুযোগ দেয়া যে, কে শেষ পর্যন্ত সামনে আসে। আমার মনে হয় না, তার (পাহলভি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করাটা এই মুহূর্তে খুব উপযুক্ত কাজ হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রেজা পাহলভির সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইরানের বিভক্ত বিরোধী শিবিরের রাজতন্ত্রপন্থি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ইরানে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পতন হলে সরকার পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়ার যে প্রস্তাব পাহলভি দিয়েছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয়নি।
ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা।
এরপর গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের মধ্যে কোথাও কোথাও সহিংস ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। ফলে ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির দাবি, এই অস্থিরতায় অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার বিক্ষোভ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পাহলভি আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দেন। এরপর সরকার দেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান কর্তৃপক্ষ সারা দেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়।
ট্রাম্প শুরু থেকেই হুমকি দিয়ে আসছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, তবে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন।সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওদের অবস্থা খুব খারাপ। আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি, যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব।’
ইরানের সরকারকে হুমকি দেয়ায় রেজা পাহলভি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ‘লাখ লাখ ইরানি’ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন দাবি করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মুক্ত বিশ্বের নেতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার জন্য যে, তিনি এই শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনবেন।’