আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্যক্তিগত সফরে চীনে গিয়েছিলেন জাপানের এক পরমাণু কর্মকর্তা। সেখানে গিয়ে একটি মোবাইল ফোন হারিয়েছেন তিনি। মোবাইল ফোনটি সাধারণ কোনও ডিভাইস নয়। সেটি ছিল স্পর্শকাতার গোপন তথ্যে ভরা।
জানা গেছে, জাপানি ওই কর্মকর্তা পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত। আর মোবাইল ফোনটি তার দফতরের জন্য ব্যবহৃত হতো।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া ফোনটিতে জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটির (এনআরএ) পারমাণবিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের গোপন যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষিত ছিল। তবে এসব তথ্য বাইরে ফাঁস হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি সংস্থাটি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন জাপান দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর আবারও তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
২০১১ সালে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভয়াবহ সুনামির পর ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে দেশটির সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই দুর্ঘটনার পর পারমাণবিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য এনআরএ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে সংস্থাটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বন্ধ থাকা রিঅ্যাক্টরগুলো পুনরায় চালুর অনুমোদন ও তদারকি।
গণমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, এনআরএ-এর ওই কর্মকর্তা গত ৩ নভেম্বর ব্যক্তিগত সফরে চীনের সাংহাইয়ে যান। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তিনি তার দফতরের দেওয়া ফোনটি হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন দিন পর তিনি ফোনটি খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি টের পান। পরে বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ফোনটি আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য এনআরএ নির্দিষ্ট কিছু কর্মীকে স্মার্টফোন সরবরাহ করে থাকে। হারিয়ে যাওয়া ফোনটিও সেই ধরনের একটি ডিভাইস ছিল।
কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, যে বিভাগের ওই কর্মকর্তা ফোনটি হারিয়েছেন, সেই বিভাগটির দায়িত্ব দেশের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পারমাণবিক উপাদান চুরি, সন্ত্রাসী হামলা কিংবা অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ঘটনার পর এনআরএ বিষয়টি দেশটির পারসোনাল ইনফরমেশন প্রোটেকশন কমিশনকে জানিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের বিদেশ সফরে দফতরের ব্যবহৃত ফোন সঙ্গে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটির ঘটনায় জাপানের পারমাণবিক খাতের কর্মকর্তাদের নাম আলোচনায় আসার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক কর্মী গাড়ির ছাদে গুরুত্বপূর্ণ নথির একটি স্তূপ রেখে গাড়ি চালিয়ে চলে যান এবং সেগুলো হারিয়ে ফেলেন।
গত বছরের নভেম্বরে একই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেক কর্মীর বিরুদ্ধে গোপন নথি অননুমোদিতভাবে কপি করে নিজের ডেস্কে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া চলতি সপ্তাহে মধ্য জাপানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ার স্বীকার করেছে, তাদের একটি পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় বাছাই করা বা ‘চেরি-পিকড’ তথ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এনআরএ চুবু ইলেকট্রিকের রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালুর আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত করেছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংস্থাটি এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন তথ্য জালিয়াতির’ অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ, বিবিসি, জাপান টাইমস, রয়টার্স
কিউএনবি/অনিমা/৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সকাল ৬:০৮