আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণতান্ত্রিক বিশ্বে গণতন্ত্রের সূতিকাগার হলো আমেরিকা। যেখানে গণতন্ত্রের মহান পুরুষের জন্ম হয়েছিল। সেই মহান ব্যক্তিটির নাম জন আব্রাহাম লিংকন। তিনি আমেরিকার ১৬ তম জননন্দিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৮৬৩ সালে গেটিসবার্গের বিখ্যাত ভাষণে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছিলেন। Government of the people by the people and for the people. আজ সেই দেশ অগণতান্ত্রিকভাবে অন্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাহ্য করে পৃথিবীর মোড়ল সেজে শক্তিমত্তার প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বে সন্ত্রাস কায়েম করে যাচ্ছে।
বিশ্ব সন্ত্রাসী ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন রক্ত পিপাসু নরখাদক। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই বেপরোয়া। একজন যুদ্ধবাজ হৃদয়হীন শাসক। মানুষের রক্ত নিয়ে খেলতে যিনি পারদর্শী এবং পছন্দ করেন। তার চিন্তাভাবনার মধ্যে সব সময় বিরাজ করে আধিপত্যবাদ। কোন দেশ কখন আক্রমণ করবে কিভাবে স্বার্থ উদ্ধার করবে সর্বোপরি রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠা তার নেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি একজন রক্তপিপাসু নরপিচাশ। পৃথিবীকে অশান্ত করতে সার্বক্ষণিক তার ধ্যান ধারণার মধ্যে নারকীয় পরিকল্পনা মিশে থাকে।
পৃথিবীতে সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে প্রত্যেক রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। কিন্তু আমেরিকা সারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে মানবাধিকারের সকল নিয়মকানুন বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যে অন্যায় কাজগুলো করে যাচ্ছে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কে করবে তার অপরাধের বিচার? জাতিসংঘ তাদের অর্থে চালিত হয়। এই সংস্থা নির্বিকার ও অসহায়। প্রত্যক্ষ মদদে ইজরাইলকে দিয়ে ফিলিস্তিনের ওপরে নারকীয় আগ্রাসন, রক্তের হোলি খেলা, মাসুম বাচ্চাদের অনাহারের মৃত্যুর করুন দৃশ্য, ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, সর্বোপরি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অভিযান চালিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তাদের দেশের আদালতে হাজির করা ছিল সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক, মর্মান্তিক ও বিস্ময়কর ঘটনা।
ট্রাম্প নিজে একজন স্বৈরাচার। ভেনিজুয়েলার ওপর স্বৈরাচারী অভিযান বিশ্ববিবেককে দংশন করেছে। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হারিস সন্ত্রাসী ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। চীন, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলো ভেনেজুয়েলার ওপর আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু আমেরিকা কারও ভয় করেন না। বর্তমান পৃথিবীতে ট্রাম্প একজন বিশ্ব বেহায়া ও মোড়ল। কোনো দেশের কথায় কর্ণপাত না করে ভেনেজুয়েলায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টকে ট্রাম্প হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। তার কথামতো না চললে প্রেসিডেন্ট মাদুরের মতো করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যা বিশ্ব গণমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে হাতকড়া পরিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে দৃশ্য মার্কিন প্রশাসন প্রচার করেছে তা শুধু ভেনেজুয়েলার মানুষদের অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করেনি বরং সারা পৃথিবীর বিবেকবান গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। কিন্তু প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমেরিকার বিরুদ্ধে কারণ নাই। সত্যিই সেলুকাস বিচিত্র এই পৃথিবী। আজ ধরার বুকে মানুষদেরকে বসবাস উপযোগী না করে যে যুদ্ধ-বিগ্রহ বাঁধিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে জনজীবন বিষময় করে তুলেছে একটু পরখ করলেই তা বোধগম্য হয় সর্বক্ষেত্রে বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকার হস্তক্ষেপ রয়েছে। এই দেশটির বিরোধিতা করার অর্থই হলো তার পরাজয় ও করুন পরিণতি। তার জীবন বিপন্ন করেই ছাড়বে ।
করবে দেশকে অস্থিতিশীল। যেমন পাকিস্তানের সাবেক জননন্দিত প্রেসিডেন্ট ইমরান খান, ড. মোহাম্মদ ইউনূসের ইস্যুতে শেখ হাসিনার পতন, আর এখন ট্রাম্পের চিন্তা ভাবনায় মননে রয়েছে কিভাবে ইরানকে ধুলির ধরায় পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করা যায়। পৃথিবীকে শান্তির জায়গায় পরিণত করতে হলে জাতিসংঘ থেকে ভেটো ক্ষমতা রহিত করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য এমন বিধান রাখা উচিত যাতে বড় কোনো দেশ ছোট দেশের ওপর অগণতান্ত্রিক ও মানবতাবিবর্জিত কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পারে এবং যত বড় ক্ষমতাবান দেশ হোক না কেন অপরাধ করলে তাদেরকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জবাবদিহিতা করতে হবে। তাহলেই এই সুন্দর পৃথিবী বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে এবং বিশ্ব হয়ে উঠবে শান্তির আবাসস্থল।
গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছিলেন- প্রভু নয়, সব দেশ একে অপরের বন্ধু হবে। তাহলে আমেরিকা, রাশিয়া, চীনসহ শক্তিধর দেশগুলোর কাতারে সম্মান ও মর্যাদার দিক দিয়ে ছোট দেশগুলিও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। এর ফলে সম্মান বাড়বে এবং অন্য কারোর সম্মান ভূলুণ্ঠিত হবে না। মানুষ হিসাবে সকল দেশের মানুষ সম্মান ও ভাবমূর্তি সহকারে শিরদাঁড়া উঁচু করে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। আর এভাবে যদি যুদ্ধ-বিগ্রহ চলতেই থাকে তাহলে বৃক্ষলতা, ফুল, ফল, নদী, সাগর-মহাসাগর পাহাড়-পর্বত পরিবেষ্টিত অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত এই পৃথিবী সেদিন আমাদের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাবে। কালের গর্ভে আমরা হারিয়ে যাবো।
আসুন সবাই সংবরণ করি ক্ষোভ দুঃখ-যন্ত্রণা-রাগ। দমন করি প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা-ক্ষমতার দম্ভ অস্ত্রের ঝনঝনানি। সবাইকে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করি । মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে সবার হৃদয় জয় করি। পৃথিবী হয়ে উঠুক বসবাসযোগ্য শান্তির আবাসস্থল।

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্ম বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা।
কিউএনবি/আয়শা/৬ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:০০