ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘আমরা তা করি না, জাতিসংঘ নিজেও সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া পর্যবেক্ষক পাঠায় না।’
কোনো দেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের ভূমিকা কী হতে পারে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একটি নীতিমালা তৈরি করে জাতিসংঘ। ‘ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্ট: সুপারভিশন, অবজারভেশন, প্যানেল অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’ শিরোনামের ওই দলিলে নির্বাচনে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।
জাতিসংঘের নির্বাচনে সহায়তা সংক্রান্ত ওই দলিলে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নির্বাচন জাতিসংঘ শুধুমাত্র তখনি তত্ত্বাবধান করতে যাবে যখন ওই দেশ সহায়তার অনুরোধ করবে অথবা নিরাপত্তা পরিষদে বা সাধারণ পরিষদে এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব পাস হয়।
কোনো দেশের নির্বাচনে কয়েকভাবে জাতিসংঘ সহায়তা করতে পারে। কখনও কখনও এসব পদ্ধতি এক সাথেই কার্যকর হতে পারে, আবার আলাদা আলাদাও হতে পারে। এসব পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে: এক. জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের আয়োজন, দুই. নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো, তিন. বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ ও নজরদারি করা এবং চার. নির্বাচন সম্পর্কে স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়া।
এর বাইরে কারিগরি সহায়তা দেয়া, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাজে সহায়তার মতো কাজও জাতিসংঘ করে থাকে। এসব লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, শান্তি রক্ষা এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশনও পরিচালিত হতে পারে।
কিন্তু চাইলেই জাতিসংঘ এসব করতে পারবে না। সেজন্য অবশ্যই নিরাপত্তা পরিষদ বা সাধারণ পরিষদের ম্যান্ডেট লাগবে। সেই সঙ্গে ওই দেশের সমর্থনও থাকতে হবে।
জাতিসংঘের দলিলে বলা হয়েছে, ‘কোন দেশের রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সেদেশের নির্বাচন আয়োজনে সরকার জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেই হবে না, সেজন্য অবশ্যই ওই দেশে জাতিসংঘের এরকম দায়িত্ব পালনে জনগণের সমর্থন থাকতে হবে।’
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, যদিও একসময়ে নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করার মতো মূল দায়িত্বগুলো পালন করতো জাতিসংঘ, কিন্তু বর্তমানে এটা খুব কমই করা হয়। বরং নির্বাচন আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই বিশেষ সহায়তা করা হয়।