সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

চারশ বছর শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে শেখপুরা মসজিদ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৮ Time View

নিউজ ডেক্স : শেখপুরা জামে মসজিদ। মুঘল আমলে নির্মিত যশোরের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। শৈশবে এই মসজিদের পাঠশালায় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ফারসি ও বাংলায় হাতেখড়ি হয়েছিল। মসজিদটি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামে অবস্থিত। গ্রামের নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন, মসজিদটির পাঠশালায় প্রায় ৪শ বছর ধরে স্থানীয়রা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা এবং কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থাও আছে এই পাঠশালায়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি এবং এখানে একটি পাঠশালা ছিল, যা ইসলামী শিক্ষা ও ফারসি শেখার কেন্দ্র ছিল। আনুমানিক ১৭ বা ১৮ শতকে এটি নির্মাণ হয় বলে ধারণা করা হয়। মুঘল শাসনামলে যশোর অঞ্চলের অনেক স্থানেই মুঘল শাসকরা বিভিন্ন স্থাপনা ও মসজিদ নির্মাণ করেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে স্থাপনাটি তৈরি বলে মনে করা হয়। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই মসজিদটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে নথিভুক্ত করে।

যশোর থেকে প্রায় ৪৮ কিমি দূরে অবস্থিত শেখপুরা মসজিদটি ৩ গম্বুজবিশিষ্ট, যা মুঘল স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী তৈরি। মসজিদের পূর্বপাশে ৪টি স্তম্ভের ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো একটি বারান্দা ছিল। যার কিছুটা ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। মূল বারান্দা থেকে পূর্বদিকে ১ মিটার উঁচু একটি দেওয়াল রয়েছে। দেওয়ালঘেরা চত্বরের দক্ষিণ ও উত্তর পাশে দুটি প্রবেশপথ। মসজিদটির আয়তন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মিলিয়ে যথাক্রমে ২১.৫ মিটার ও ১৬.৬ মিটার এবং এটি ১২ মিটার উঁচু। মধুকবি মাইকেল মধুসূদনের পৈতৃক নিবাস দেখতে আসা দর্শনার্থীরা এ মসজিদটিও ঘুরে দেখে যান। প্রতিদিনই কম-বেশি দর্শনার্থী আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি আকরাম আলী বলেন, মুঘল যুগের এ মসজিদটি আজও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দাঁড়িয়ে আছে। এটি এ অঞ্চলের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। বহু বছর ধরে এই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমান ইমাম রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় ৪শ বছর ধরে ইসলাম প্রচারে মসজিদটিতে পাঠশালা পরিচালিত হয়ে আসছে। এই মসজিদের পাঠশালায় মহাকবির হাতেখড়ি হয়।

তিনি মসজিদের ইমাম মৌলভি লুৎফুল হক কবিরের কাছে বাংলা ও ফারসি ভাষার শিক্ষা নিয়েছেন। বর্তমানে এ পাঠশালায় ৫০ জন ছেলে ও মেয়েশিশু কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছে। মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি কাজী রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, মসজিদের সংস্কার দরকার। বিশেষ করে মেঝে ও দেয়ালগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের (মধুপল্লী) ভারপ্রাপ্ত কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন, পুরাকীর্তি হিসাবে নথিভুক্ত হওয়ার পর ২০০০ সালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। নতুন করে এরপর ২০২৪ সালে কিছু সংস্কার হয়েছে। আমাদের আঞ্চলিক অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নতুন করে সংস্কারের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। শুনেছি কিছু বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

 

 

 

 

কিউএনবি/মহন/০৪ জানুয়ারি ২০২৬,/সকাল ৯:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit