আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মেক্সিকোর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে এই প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পে আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোসের কাছে জনপ্রিয় পর্যটন শহর আকাপুলকোর উপকূলবর্তী এলাকায়। শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
গুয়েরেরোর গভর্নর এভলিন সালগাদো জানান, তার রাজ্যে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা নিশ্চিত করেছেন, রাজধানীতে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
মেয়র ব্রুগাদা আরও জানান, মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক আঘাত এখনও অনুভূত হচ্ছে। এতে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি নগরবাসীকে শান্ত থাকার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের পর ধসের ঝুঁকি থাকায় রাজধানীতে অন্তত দুটি বড় কাঠামো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩৪টি ভবন ও ৫টি বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শনের কাজ চলছে।
মেক্সিকোর জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কেন্দ্র নাগরিকদের জরুরি ব্যাকপ্যাক প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এতে টর্চলাইট, ব্যাটারিচালিত রেডিও, বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, উষ্ণ পোশাক এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ফটোকপি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর বহু বাসিন্দা এবং পর্যটক ভূমিকম্পের আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন ভবন কাঁপতে দেখা যায়।
ভূমিকম্পের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম একটি সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন। সে সময় ধারণ করা ভিডিওতে তাকে ‘এটি কাঁপছে’ বলতে শোনা যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মেক্সিকোতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
সূত্র : বিবিসি
কিউএনবি /অনিমা/০৩ জানুয়ারি ২০২৬,/সকাল ১১:৪৯