বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃত্যু বেড়ে ১২৩

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় গত এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। এর ফলে ভূমিধস ও হড়কা বন্যার ঘটনা ঘটে। এতে মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকেই নিখোঁজ হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারা জানান, ৪০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়ানক করে তোলে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে দ্বীপদেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড়টি। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ শনিবার ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ শ্রীলঙ্কা থেকে সরে এসে উত্তরে প্রতিবেশী ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু এর আগে দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এটি।
 
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কার কোনো কোনো এলাকায় ৩০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার জেরে আবারও ভূমিধস ও হড়কা বানের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের (ডিএমসি) মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানান, ‘আমরা ১২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি এবং আরও ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছে।’ এই কর্মকর্তা আরও জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
 
ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বন্যার পানি শহরগুলোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিচ্ছে। ডিএমসি শুক্রবার জানায়, বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন। তাদের উদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রত্যন্ত জায়গাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছোতে পারছে না।
 
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ একটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে শুরু হয়। কিন্তু পরে তা দ্রুতই তীব্র হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড়টি তাণ্ডব চালানোর পরও শ্রীলঙ্কায় নদীর পানিস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র তথা ডিএমসি নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু ভূমিতে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির সেচ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কেলানি নদী উপত্যকার নিম্নাঞ্চলের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানী কলম্বো।

 

 

‎কিউএনবি/খোরশেদ/২৯ নভেম্বর ২০২৫,/বিকাল ৩:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit