আলমগীর মানিক,রাঙামাটি : রাঙামাটিতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) কাপ্তাই ও লংগদু উপজেলায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতরা হলেন—কাপ্তাইয়ের মো. ইলিয়াছ (৪৫) এবং লংগদুর কিশোর মাসুম আল হাসান (১৫)।
রাঙামাটি–কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের সীতাঘাট এলাকায় ঢাকাগামী সৌদি পরিবহনের একটি গাড়ির (চট্টমেট্রো ব-১১-০৬৭৯) ধাক্কায় মো. ইলিয়াছ নিহত হন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ইলিয়াছ কাপ্তাই উপজেলার ৫ নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের শিলছড়ি এলাকার বাসিন্দা ও মৃত নুর আহামদের ছেলে। তিনি কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় এস আলম কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কাপ্তাই থানার ওসি মোহাম্মদ কায় কিসলু জানান, ইলিয়াছ সড়ক ধরে হাঁটার সময় সৌদি পরিবহনের খোলা লকারের অংশের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে কাপ্তাই সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রুইহ্লা অং মারমা নিশ্চিত করেন যে তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর পুলিশ বাসটি আটক করেছে, তবে চালক মোহাম্মদ মাহবুব পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে; পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।
অপরদিকে, লংগদু উপজেলার পশ্চিম বাইট্টা পাড়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম আল হাসান (১৫) নামে এক সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুম স্থানীয় আব্দুল হান্নানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুম সাইকেল চালিয়ে রাস্তার এক পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম মেট্রো-ট ১২-০৪৩৪ নম্বরের একটি দ্রুতগতির ট্রাক বেপরোয়া গতিতে মোড় ঘুরতে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়।
মাসুমের চাচা হাসেম তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লংগদু সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবার লংগদু থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লংগদু থানা পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার পর পশ্চিম বাইট্টা পাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বেপরোয়া যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কিউএনবি/খোরশেদ/২৮ নভেম্বর ২০২৫,/দুপুর ১:৩২