বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

এলডিসি ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৩৭ Time View

রাজনীতি ডেক্স : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং বন্দরের বিষয়সহ যে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারেরই আছে। নির্বাচনী ম্যান্ডেট যাদের নেই, তাদের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার নিজের ফেসবুক পাতায় দীর্ঘ এক পোস্টে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এসব বিষয়ের। তিনি লিখেছেন, ‘একবার গাজীপুরের একজন ছোট পোশাক কারখানার মালিককে কল্পনা করুন। তিনি দশ বছরের বেশি সময় ধরে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। শতাধিক কর্মীকে কাজ দিয়েছেন।

খুব চাপের মধ্যে থেকে হিসাব মিলিয়েছেন। কঠিন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে আছেন। একদিন হঠাৎ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেই শুল্ক সুবিধাগুলো, যেগুলো তার পণ্যের দামকে প্রতিযোগিতায় রাখত, নীরবে উঠে গেল। এতে তার অর্ডার কমতে শুরু করল। আর বাড়তে লাগল চাপ—কারখানা চালিয়ে রাখা, শ্রমিকদের বেতন দেওয়া, নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখা। এবার কল্পনা করুন নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীকে, যিনি দেখছেন তার পরিবার অনিশ্চয়তার দিকে ঢুকে যাচ্ছে। তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। সংসার চালাতে তিনি ওভারটাইমের ওপর নির্ভর করেন।

রপ্তানির চাপে পড়লেই প্রথমে ওভারটাইম বন্ধ হয়। তারপর শিফট কমে। তারপর চাকরিও চলে যায়। এগুলো কোনো শিরোনামে আসে না। এগুলো সাধারণ পরিবারের ভেতরের নীরব সংকট। তারা কেউই এই সিদ্ধান্তে ভোট দেয়নি। কেউ তাদের কিছু জিজ্ঞেসও করেনি। বাস্তব হিসাবও দেখানো হয়নি। এই কারণেই বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি সরকারি বিবৃতির চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি আগেও বলেছে—২০২৬ সালের সময়সূচি ধরে এগিয়ে যাওয়া, কিন্তু স্থগিত রাখার বিকল্প না রাখা—এটা পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

সিদ্ধান্তটি এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে, যার কোনো নির্বাচিত জনসমর্থন নেই। অথচ সেই সরকার দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে বহু দশক প্রভাবিত করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমাদের বলা হচ্ছে—সময় বাড়ানো ‘অসম্ভব’। স্থগিত করতে চাওয়া ‘অপমানজনক’। জাতিসংঘ নাকি তা বিবেচনাও করবে না। কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশগুলোর উত্তরণের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিয়মেও রয়েছে—অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকে। দেশের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কিছু সময় চাওয়া—একটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ।

তাহলে আমরা কেন ভান করছি যে কোনো উপায় নেই? কেন আমরা নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই সীমিত করছি? স্থগিতের বিকল্প প্রকাশ্যে বন্ধ করে দিয়ে আমরা নিজেরাই আলোচনা করার ক্ষমতা দুর্বল করছি। আন্তর্জাতিক আলোচনায় আমরা প্রভাব খাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করে আগেই দুর্বল অবস্থান থেকে টেবিলে বসছি। সরকারের নিজের নথিপত্রেই দেখা যায়—ব্যবসায়ীরা ব্যাংক খাতে চাপ, বৈদেশিক মুদ্রায় সংকট, ঋণের ঝুঁকি বৃদ্ধি, রপ্তানি কমে যাওয়ার চাপ—সবই অনুভব করছেন। এটা উত্তরণ–বিরোধী কোনো বক্তব্য নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া এক নয়।

আমি মনে করি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো সন্দেহ না থাকা মানেই সেটা প্রকৃত জাতীয় শক্তি নয়। প্রকৃত জাতীয় শক্তি হলো, অপরিবর্তনীয় কিছু হয়ে ওঠার আগেই কঠিন প্রশ্নগুলো করার সুযোগ থাকা। এবার তাকান চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে—যেটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। এখানে যা ঘটে, তা লক্ষ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে—যেকোনো রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়ে বেশি। সম্প্রতি বন্দর নিয়ে যেসব দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা সাধারণ বিষয় নয়। এগুলো দেশের কৌশলগত সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত। এসব এগিয়ে নিচ্ছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার—যার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে দেওয়ার অধিকার নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে, তা–ই দেখা যাচ্ছে এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রেও।

কৌশলগত বিকল্পগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। জনআলোচনাকে গুরুত্বহীন বলা হচ্ছে। যুক্তিসংগত উদ্বেগকে ‘গতির প্রয়োজন’ বা ‘অবশ্যম্ভাবিতা’র নামে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—এটা কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করার বিষয় নয়। এটা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করার বিষয়। এবং সেই নীতিকে রক্ষা করার বিষয়—যে নীতি বলে, যেসব সিদ্ধান্ত দশকের পর দশক একটা দেশের জীবনকে গড়ে দেবে, সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকারের। কেউ বলছে না যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে না বা বন্দরের সংস্কার হবে না। কথাটি আরও সহজ—এবং আরও গভীর: একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে কেবল সেই সরকার, যাকে দেশের মানুষ নিজের ভোটে নির্বাচন করেছে।

কৌশলগত ধৈর্য দুর্বলতা নয়। জনসম্পৃক্ততা বাধা নয়। গণতান্ত্রিক বৈধতা দেরি নয়। আর আমার মতে, সবকিছুর নিচে যে সত্যটি লুকিয়ে আছে তা হলো— বাংলাদেশের মানুষ কখনোই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারা কষ্ট করেছে, ত্যাগ করেছে—কারণ তারা মর্যাদা, কথা বলার অধিকার এবং নিজের সিদ্ধান্তের ওপর বিশ্বাস রাখে। তাদের চাওয়া খুব সাধারণ: তাদের কথা শোনার সুযোগ, অংশ নেওয়ার অধিকার, সম্মান। এই কারণেই অনেকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিকে—যেখানে বাংলাদেশের মানুষ কথা বলবে, সিদ্ধান্ত নেবে এবং আবারও প্রমাণ করবে একটি সহজ সত্য: এই দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে এই দেশের মানুষ নিজেরাই—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বিশ্বাস নিয়ে।’

 

 

কিউএনবি / মোহন / ২৫ নভেম্বর ২০২৫ / সকাল ১১:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit